শালবনীর তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রের আজ শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রী মমতার, উপস্থিত থাকছেন সৌরভও

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জিন্দল গোষ্ঠীর নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। জানা গিয়েছে, সজ্জন জিন্দাল স্বয়ং সৌরভকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জিন্দল গোষ্ঠী প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এখানে ৮০০ মেগাওয়াটের দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী এর শিলান্যাস করেন।
গত ১৭ এপ্রিল এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি জিন্দল গোষ্ঠী এখানে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও গড়ে তুলবে। শালবনীতে জিন্দল গোষ্ঠীর মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ১০০ একর। এর মধ্যে ১৮৩ একর জমিতে তাদের সিমেন্ট কারখানা রয়েছে, যা ২০১৮ সালে চালু হয়েছিল।
সিমেন্ট কারখানার পর এবার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করল জিন্দল গ্রুপ। শনিবার এই উপলক্ষে শালবনীতে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় এবং মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। জিন্দল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আশা করা হচ্ছে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই একটি পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ সম্পন্ন হবে।
সংস্থার আধিকারিক দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “জেএসডব্লিউ এনার্জির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ২ হাজার একর জমির উপর গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে এখানে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সাধারণত ৩ বছরের মধ্যেই আমাদের এখানে একটি ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে জিন্দল গ্রুপের কর্ণধার সজ্জন জিন্দল শালবনীতে এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এই শালবনীতেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তার ইস্পাত কারখানা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে কারখানার কাজ শুরু হতে সময় লাগায় অনেকের মধ্যে অধৈর্য দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে এক শিল্প অনুষ্ঠানে সৌরভ জানান, ইস্পাত কারখানার মতো এত বড় প্রকল্প রাতারাতি সম্ভব নয় এবং এর জন্য বিভিন্ন সরকারি ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। তবে তিনি আশাবাদী যে আগামী ১৮-২০ মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করা যাবে।