ইডেনে গুজরাত ত্রাস! গিল-সুদর্শন-বাটলারের চ্যালেঞ্জে কেকেআর, পিচ নিয়ে ধোঁয়াশা

সাই সুদর্শন – এই তরুণ তুর্কিকে অবিলম্বে ভারতীয় দলে ফেরানোর জোরালো দাবি তুলেছেন স্বয়ং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি।
শুভমন গিল – ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, বিরাট কোহলির পর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছেন।
জস বাটলার – ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যাঁর ধারাবাহিকতা বিশ্বজুড়ে বিরল।
এই তিন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের গুজরাত টাইটান্স আজ রবিবার পা রাখছে দিদি-রাজ্যের রাজধানী কলকাতায়। শনিবার মোদি-রাজ্যের রাজধানী আমদাবাদে দিল্লি ক্যাপিটালসকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য ৪ বল বাকি থাকতে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে যেভাবে তুলে নিয়েছে গুজরাত, তা যেন ছিল তাদের কাছে বিকেলে পার্কে হেঁটে বেড়ানোর মতোই সহজ।
আপাতত এই ত্রয়ীই প্রতিপক্ষ শিবিরের মেরুদণ্ডে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা ধারাবাহিক, বিধ্বংসী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, ক্রিকেটীয় শট খেলেন, আবার প্রয়োজনে ব্যাকরণ ভাঙতেও জানেন।
সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কঠিন পরীক্ষা নিতে নামবে গুজরাত। সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার শীর্ষে। বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতলেই প্লে অফের টিকিট পাকা। অন্যদিকে, নাইটদের সামনে সমীকরণ বেশ কঠিন। প্লে অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে অন্তত পাঁচটি ম্যাচে জয় চাই-ই।
এই পরিস্থিতিতে গুজরাতের বিরুদ্ধে কোন পিচে খেলা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় নাইট শিবির। নাইটদের স্পিন শক্তি মাথায় রাখলে শুকনো বাইশ গজে খেলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারাইন যদি পিচ থেকে সহায়তা পান, তাহলে যেকোনো ব্যাটিং লাইন আপের জন্যই তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তবে এই কৌশল বুমেরাংও হতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলার, লেগস্পিনার রশিদ খান থাকায়। তাঁর সাথে সাই কিশোরও ছন্দে রয়েছেন।
শনিবার রাত পর্যন্ত ইডেনের পিচে হালকা সবুজ ঘাসের আভা দেখা গেছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তা থাকবে কিনা, সেই বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, কেকেআরের হাতে যদি অনরিখ নখিয়া, হর্ষিত রানা ও বৈভব অরোরার মতো পেসার থাকেন, তবে গুজরাতের তূণেও মহম্মদ সিরাজ, ইশান্ত শর্মা, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ও আর্শাদ খানের মতো গতি তারকা রয়েছেন, যাঁরা কোনও অংশে কম যান না।
এই পরিস্থিতিতে পিচ নিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট করতে নারাজ কেকেআর। শোনা যাচ্ছে, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে যে পিচে খেলা হয়েছিল, সেই একই উইকেটে গুজরাতের বিরুদ্ধে মহারণ অনুষ্ঠিত হবে। যে উইকেটে স্পিনার ও পেসার উভয়েই সাহায্য পাবেন এবং বড় রান ওঠার সম্ভাবনাও থাকবে।
ঘরের মাঠে ম্যাচ জিতে রবিবার সন্ধ্যায় ইডেনে অনুশীলনে নেমে পড়ছে গুজরাত টাইটান্স। সাধারণত আগের দিন ম্যাচ খেলে অন্য শহরে গেলে আইপিএল দলগুলি পরের দিন বিশ্রাম নেয়। তবে আশিস নেহরার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্লে অফ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনওরকম ঢিলেমি দিতে নারাজ। ঐচ্ছিক হলেও, অনুশীলন হবে।
গুজরাতের এই তুঙ্গস্পর্শী মনোবলকে রুখতে নাইটদের তরী কতটা প্রস্তুত, সেটাই এখন দেখার।