শিলিগুড়ি থেকে উদ্ধার 12 লক্ষ টাকার ময়ূরের পালক! তল্লাশি বন দফতরের

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা মূল্যের ময়ূরের পালক উদ্ধার করল বন দফতর। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ির মিলনপল্লী এলাকায় কার্শিয়াং বনবিভাগের শুকনা রেঞ্জের এই অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরে।

বন দফতর সূত্রে খবর, মিলনপল্লীর ফণিভূষণ রোডের বাসিন্দা অমল কর্মকারের বাড়িতে রেঞ্জার দীপক রসেইলির নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি বিশেষ দল হানা দেয়। সেই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বনকর্মীরা উদ্ধার করেন ৫৭ হাজার ময়ূরের পালক ও ময়ূরের পালক দিয়ে তৈরি ৭৩৩টি হাতপাখা। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ পালকের বাজারদর আনুমানিক ১১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। জানা গিয়েছে, ঘরের একটি বাঙ্কারের মধ্যে ওই ময়ূরের পালকগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল।

ময়ূরের পালক মজুত রাখার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বাড়ির মালিক অমল কর্মকারকে গ্রেফতার করেছে বন দফতর।

এ বিষয়ে শুকনা রেঞ্জের বন আধিকারিক দীপক রসাইলি জানান, “গোপন সূত্রে আমরা খবর পাই, শিলিগুড়ির মিলনপল্লী এলাকার একটি বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ মজুত রয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই এদিন নির্দিষ্ট ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ময়ূরের পালক উদ্ধার করা হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে অমল কর্মকার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি কোথা থেকে এই বিপুল সংখ্যক ময়ূরের পালক পেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” বন দফতর সূত্রে খবর, আজ (শনিবার) ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে।

প্রাথমিক তদন্তে বন দফতর জানতে পেরেছে, ওই পালক প্রথমে রাজস্থান থেকে কলকাতায় আসে। এরপর কলকাতা থেকে সেই পালকগুলি শিলিগুড়িতে আনা হয়। বন দফতরের অনুমান, শিলিগুড়ি থেকে এই পালকগুলি দফায় দফায় দার্জিলিং, সিকিম, ভুটান, নেপাল ও চিনে পাচারের ছক ছিল।

উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেভি এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথা থেকে এবং কীভাবে ওই পালকগুলো আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।” তিনি আরও জানান, যেহেতু ময়ূর একটি জাতীয় পাখি এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন, ১৯৭২-এর তফসিল ১-এর অন্তর্ভুক্ত, তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সেই আইনেই মামলা রুজু করা হয়েছে।