“নিমন্ত্রণ করলে যেতাম…’”-দিলীপ ঘোষের বিয়ে নিয়ে আর কী বললেন বীরভূমের অনুব্রত মন্ডল

রাজনীতির মাঠে দুজনই ‘দাবাং’ স্টাইলের নেতা। কথায় কথায় বাকযুদ্ধ, কটাক্ষ, আর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা— দিলীপ ঘোষ ও বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর সম্পর্ককে অনেকেই ‘আদায় কাঁচকলায়’ বলে ঠাট্টা করেন। কেউ কেউ বলেন, “দিলীপ যদি বুনো ওল হন, তাহলে কেষ্ট তেঁতুল!” কিন্তু ১৮ এপ্রিলের সেই ‘গুড ফ্রাইডে’তে সব দ্বন্দ্বই যেন অতীত। দিলীপ ঘোষের বিয়েতে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানালেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অনুব্রত মণ্ডল।

“দিলীপদা ভালো মানুষ, শুভেচ্ছা জানাই”
নিউ টাউনের বিয়ের মণ্ডপে সাজগোজ চলছে, হবু কনে রিঙ্কু মজুমদারের জন্য অপেক্ষা করছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ঠিক সেই সময়েই বীরভূম থেকে ফোনে সংবাদমাধ্যমকে বার্তা দিলেন তৃণমূলের অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথায়, “দিলীপদা ভালো মানুষ। তাঁর বিয়েতে শুভেচ্ছা জানাই। নিমন্ত্রণ পেলে নিশ্চয়ই যেতাম।”

ছকভাঙা এই বিয়ে
বঙ্গ রাজনীতিতে এমন মধুর সম্পর্কের উদাহরণ খুব কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “রাজনীতিকদের বিয়ে নতুন কিছু নয়, কিন্তু দিলীপ ঘোষের এই সিদ্ধান্ত একাধারে সাহসী ও ছকভাঙা। এই বয়সে নতুন করে সংসার বাঁধা, সমাজের রীতিকে তোয়াক্কা না করা— সব মিলিয়ে তিনি নিজের ধাঁচেই এগিয়েছেন।”

যেখানে ছিল বিরোধ, সেখানে আজ শুভেচ্ছা
দিলীপ ও অনুব্রতের সম্পর্ক কিন্তু একসময় তীব্র বিরোধিতায় ঠাসা ছিল। গত বছর, যখন অনুব্রত জামিনে মুক্তি পেয়ে তিহার জেল থেকে বেরিয়েছিলেন, তখন দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “জেল খাটা নেতা ছাড়া পেয়েছে!” আবার ২০২০ সালে অনুব্রতও দিলীপকে ‘৪২০’ ও ‘দালাল’ আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ সেই সব কথা ইতিহাস। ৪ঠা বৈশাখের এই দিনটিকে রাজনীতির মাঠে ‘ভালোবাসার দিন’ বলেই মনে করছেন অনেকে।

রাজনীতির ঊর্ধ্বে ব্যক্তিগত সুখ
দিলীপ ঘোষের এই বিয়ে শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই নয়, বরং রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিরোধী দলের নেতার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো এই ইঙ্গিতই দেয় যে, রাজনৈতিক লড়াই যতই তীব্র হোক, ব্যক্তিজীবনের সুখের মুহূর্তগুলো সকলের জন্যই শ্রদ্ধার।

এখন প্রশ্ন, এই নতুন সম্পর্ক কি ভবিষ্যতে রাজনীতির সমীকরণেও কোনো পরিবর্তন আনবে? সেটা সময়ই বলবে। তবে আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে দিলীপ ঘোষ ও রিঙ্কু মজুমদারের জন্য এক সুন্দর শুরু।