শিক্ষকদের স্কুলে ফেরার অনুমতি, চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের কী হবে?- উঠছে নতুন প্রশ্ন

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আর্জির প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত নন এমন শিক্ষকরা আপাতত স্কুলে যেতে পারবেন। একইসঙ্গে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে, এই নির্দেশে শিক্ষাকর্মীদের জন্য কোনও সুরাহা মেলেনি। গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের চাকরি বাতিলের আগের রায়ই বহাল থাকছে। সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, এই দুই পদে নিয়োগেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।

শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোনও বড় মন্তব্য করেননি। চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মনে হচ্ছে, তাঁদের নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলও তেমন ভাবছে না। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা নিজেরাই সরকারের কাছে নিজেদের দাবি জানাতে উদ্যোগী হয়েছেন। শুক্রবার চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।

শুক্রবার বেলা ১টা নাগাদ পার্ক সার্কাসে নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে জমায়েত করবেন চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীরা, যাঁরা নিজেদের যোগ্য বলে মনে করছেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। এরপর তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের সমস্যার কথা জানাবেন। যদিও শুক্রবার গুড ফ্রাইডে হওয়ায় সরকারি ছুটি, তাই শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মধ্যে। চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী সুদীপ কোনার বলেন, “আমাদের নিয়ে কেউ কথা বলছেন না। আমরা শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাব। তার আগে জমায়েত হবে পার্ক সার্কাসে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আপাতত স্বস্তি এসেছে। তিনি এও জানান, এই বছরের মধ্যেই চাকরিহারাদের সমস্যার সমাধান হবে এবং তার জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষিকারা স্কুলে যেতে পারলেও শিক্ষাকর্মীরা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পরামর্শ নিয়ে যা করার করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কেউ ফাঁদে পা দেবেন না। নিশ্চয় পথ খুঁজে বের করা হবে। সরকারের উপরে ভরসা রাখুন। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না।”

শিক্ষকদের জন্য আদালতের কিছুটা নমনীয়তা দেখা গেলেও, শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ এখনও অন্ধকারে। তাঁরা এখন শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের দিকে তাকিয়ে নিজেদের সমস্যার সমাধানের আশায়।