আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকদের অনুদানের হিসাব, মিলেছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি! কত টাকা খরচ হয়েছে কোন খাতে?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। সেই আন্দোলনের সময় জুনিয়র ডাক্তারদের তিনটি সংগঠন মোট সাড়ে তিন কোটি টাকারও বেশি অনুদান পেয়েছিল। বুধবার সেই অনুদানের খরচের হিসাব প্রকাশ করা হল। জুনিয়র ডাক্তারদের আয়োজিত এক গণ কনভেনশনে এই ব্যালান্স শিট প্রকাশ্যে আনা হয়। কনভেনশনে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট (ডব্লিউবিজেডিএফ) হিসাব প্রকাশ করে জানিয়েছে, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অনুদান পেয়েছিলেন। সেই অনুদানের মধ্যে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এবং এখনও দু’কোটিরও বেশি টাকা তাদের কাছে রয়েছে। বেঁচে যাওয়া এই অনুদানের টাকা ভবিষ্যতে কী কী কাজে লাগানো হবে, সে বিষয়েও এদিনের কনভেনশনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বুধবার থেকেই জুনিয়র চিকিৎসকদের এই সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট (ওয়েবসাইট ঠিকানা) চালু হয়েছে।
ডব্লিউবিজেডিএফ ২০২৪ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত অনুদানের হিসাব পেশ করেছে। বুধবার তারা তাদের অডিট রিপোর্টও প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এই সংগঠন মোট ২ কোটি ২৬ লক্ষ ১৯ হাজার ১৩ টাকা অনুদান পেয়েছে। এর মধ্যে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত তারা ৩১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩৩৪ টাকা খরচ করেছে। বর্তমানে তাদের হাতে ১ কোটি ৯৪ লক্ষ ৪২ হাজার ৬০৪ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
তাদের পেশ করা হিসাব অনুযায়ী, অনশন মঞ্চ তৈরি এবং অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৯২১ টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে অংশ নেওয়ার জন্য ডব্লিউবিজেডিএফ আরও আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে। সংগঠনের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ তৈরির জন্য ৪৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ‘অভয়া ক্লিনিক’ আয়োজনের জন্য ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা এবং আদালতে আইনি লড়াই চালানোর জন্য ১৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বিভিন্ন মহল থেকে, এমনকি শাসক দলের কয়েকজন নেতানেত্রীর তরফেও এই অনুদানের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা সেই টাকা কোথায় খরচ করছেন, তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি, হাওলার মাধ্যমে বাইরে থেকে আন্দোলনে টাকা এসেছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন কেউ কেউ। সেই সমস্ত অভিযোগের স্পষ্ট জবাব দিতে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই গত অর্থবর্ষের যাবতীয় হিসাব এদিন প্রকাশ্যে আনা হল বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিনের কনভেনশনে জুনিয়র ডাক্তাররা জানান, বেঁচে থাকা অনুদানের অর্থ ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হবে। তাদের সংগঠনের ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।