ফের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে থ্রেট কালচার, ইনচার্জ সাসপেন্ড

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফের থ্রেট কালচার, র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগে ফিজিওথেরাপি বিভাগের ইনচার্জ প্রতাপ নন্দীকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ এবং তাঁকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বৃহত্তর শাস্তির দাবিতে বিভাগের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পড়ুয়ারা।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রি-হ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী চলতি মাসের ৪ এপ্রিল অধ্যক্ষের কাছে ফিজিওথেরাপি সেকশনের ডিপ্লোমা কোর্সের ইনচার্জ প্রতাপ নন্দীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগে তিনি প্রতাপ নন্দীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ক্লাসরুমে ডেকে বাজে মন্তব্য করার কথা উল্লেখ করেছেন।
অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেও কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় বুধবার ফিজিওথেরাপি বিভাগের পড়ুয়ারা বিভাগের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান শুরু করেন এবং কাজকর্ম বন্ধ করে দেন। বিক্ষোভের পর বিভাগীয় প্রধান পার্থপ্রতিম পানের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত কমিটি সাতদিনের মধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিলে পড়ুয়ারা তাদের বিক্ষোভ তুলে নেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ইনচার্জকে ছুটিতে পাঠানোর পাশাপাশি তাঁকে সাসপেন্ড করেছে এবং তাঁর জায়গায় অন্য একজন চিকিৎসককে ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বিভাগের এক ছাত্রী রিয়া বৈদ্য র্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্ত প্রথমে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি এবং পরে মেডিক্যাল ফাঁড়িতে দায়ের হলেও, পরে ছাত্রীটি পুলিশি অভিযোগ তুলে নেন। বর্তমানে সেই বিষয়টি অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির কাছে বিচারাধীন রয়েছে।
বর্তমান ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগ, ইনচার্জ প্রতাপ নন্দী একাধিকবার তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। একইসঙ্গে বিভাগের এক সিনিয়র ছাত্রও তাঁকে নিয়মিত হুমকি ও মানসিক চাপে রাখছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রীটি ৪ এপ্রিল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ সাহাকে বিষয়টি জানান এবং পরে মেডিক্যাল ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ১৪ এপ্রিল অভিযুক্ত ইনচার্জকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।
তবে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের দাবি, শুধুমাত্র সাসপেন্ড করলে হবে না, অভিযুক্তকে অবিলম্বে বিভাগ থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন বিভাগীয় প্রধান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার পর কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতিক্রমে অভিযুক্ত ইনচার্জকে ১০ দিনের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। ঘটনার তদন্তের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভরত ছাত্রী রিয়া বৈদ্য বলেন, “প্রতাপ নন্দী স্যার মাঝেমধ্যেই পড়ুয়াদের কটূক্তি করছেন। প্রতিবাদ করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। ক্লাসে ডেকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। অভিযোগের কথা বললেই একঘরে করে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা বিক্ষোভ দেখালাম। বিভাগীয় প্রধান আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে সাতদিনের মধ্যে পদক্ষেপ করা হবে। তা না হলে ফের বিক্ষোভ করা হবে।”
বিভাগীয় প্রধান পার্থপ্রতিম পান বলেন, “ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ইনচার্জকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাকিটা তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখবে। তারা যা সিদ্ধান্ত নেবে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।”
যদিও এই বিষয়ে প্রতাপ নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যে ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং তদন্ত কমিটিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন।