“নিজেরাই চাকরি খেল আবার নিজেরাই বলছে…?”-চাকরি বাতিল নিয়ে BJP-কে আক্রমণ মমতার

পশ্চিমবঙ্গে SSC-র প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বিজেপিকে দায়ী করেছেন। বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “নিজেরাই চাকরি খেল আবার নিজেরাই বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জবাব দাও।” এই প্রসঙ্গে তিনি ত্রিপুরা ও উত্তরপ্রদেশের শিক্ষকদের চাকরি হারানোর ঘটনাও উল্লেখ করেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে শিক্ষকদের প্রতি অন্যায়ের অভিযোগ তুলে।

মমতার অভিযোগ: বিজেপির ষড়যন্ত্র

মমতা ত্রিপুরার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “তোমরা (BJP) শিক্ষকদের চাকরি কেন খেলে? ত্রিপুরায় বলেছিলেন, যাঁদের চাকরি গিয়েছে তাঁদের চাকরি ফিরিয়ে দেবে। দিয়েছ? বরং যাঁরা চাকরি চাইতে গিয়েছিল তাঁদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছ।” তিনি উত্তরপ্রদেশের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ৬৯ শতাংশ শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে বলে দাবি করেন। মমতার অভিযোগ, বিজেপি শিক্ষকদের চাকরি কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছে এবং বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। তিনি এই ঘটনাকে “ষড়যন্ত্র” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের নিয়ে ক’দিন নাচানাচি করল। তোমরা একূলেও আছো, ওকূলেও আছো।”

শিক্ষকদের প্রতিবাদ: যন্তরমন্তর থেকে নবান্ন

চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ বুধবার সকালে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রতিবাদে অবস্থান শুরু করেছেন। তারা চাকরি ফেরানোর দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এদিকে, বাংলায় চাকরিহারা ঐক্যমঞ্চ আগামী ২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মঞ্চের প্রতিনিধিরা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। মঞ্চের আহ্বায়ক শুভদীপ ভৌমিক বলেন, “সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। সকলে তাঁকে চেনেন, সম্মান করেন। এমন একজনকে মিছিলে পাশে পাওয়া নিঃসন্দেহে আলাদা গুরুত্বের।” যদিও সৌরভের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি।

আরজি কর মামলার সঙ্গে যোগ

শিক্ষকদের এই আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে চাকরিহারা ঐক্যমঞ্চ সোমবার কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে নিহত চিকিৎসক তিলোত্তমার বাড়িতে যায়। তারা তিলোত্তমার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং নবান্ন অভিযানে তাঁদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। জানা গেছে, তিলোত্তমার বাবা-মা এই অভিযানে অংশ নিতে রাজি হয়েছেন এবং উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শিক্ষকরা তাঁদের আন্দোলনকে আরও বৃহত্তর সামাজিক ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপি এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে। বিজেপি নেতা সুবেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্নীতির মূল হোতা। তাঁর ভাইপো ৭০০ কোটি টাকার ঘুষ নিয়েছেন।” তিনি শিক্ষকদের সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের পাশে আছেন। বিজেপি ও সিপিএম এই ঘটনায় রাজনীতি করছে।” তিনি ত্রিপুরায় ১০,৩২৩ শিক্ষকের চাকরি হারানোর প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির সমালোচনা করেন।

শিক্ষকদের দাবি ও ভবিষ্যৎ

চাকরিহারা শিক্ষকরা তাঁদের চাকরি ফেরানোর দাবিতে একাট্টা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, তাঁরা সৎভাবে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তবু তাঁদের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। নবান্ন অভিযান ও যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছেন।

মমতা শিক্ষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও, তাঁর সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বাধ্য। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, এবং আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তপ্ত বিতর্কের কারণ হতে পারে।