দিঘায় গেলেই দর্শন হবে জগন্নাথ দেবের, নবনির্মিত ‘জগন্নাথ ধাম’, অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ লগ্নে খুলছে দ্বার !

সাগরের তীরে এবার গড়ে উঠেছে এক নতুন ‘ধাম’। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে দিঘায় নির্মিত হয়েছে এক বিশাল জগন্নাথ মন্দির। আগামী অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ লগ্নে সেই মন্দিরের দ্বার উন্মোচিত হতে চলেছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে এখন স্থানীয় residents এবং পর্যটকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
দিঘার বুকে তৈরি হওয়া এই জগন্নাথ ধাম শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়—এটি একইসঙ্গে ভক্তি, স্থাপত্য এবং বাঙালির সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। হিডকোর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে থাকছে ইসকন।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১৩ ফুট উচ্চতার এই মন্দিরটি একনজরে দেখলে পুরীর মন্দিরের আদল স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে, বাঙালির রুচি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় এই মন্দিরকে বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে।
মন্দির উদ্বোধনের দিনে বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায়, মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, পুলিশ, পরিবহন দফতর এবং ইসকনের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠু ট্র্যাফিক ব্যবস্থা এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উদ্বোধনের দিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ভক্তের সমাগম হতে পারে। সেই অনুযায়ী অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
দিঘায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা:
২৮ এপ্রিল থেকে মন্দিরের চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২৯ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দিঘায় টোটো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
পর্যটকদের ২৮ এপ্রিলের মধ্যেই দিঘায় পৌঁছে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই মন্দিরে পুরীর মন্দিরের মতোই প্রতিদিন সন্ধ্যায় ধ্বজা উত্তোলন করা হবে। এছাড়াও, চৈতন্য ফটক বিশেষভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ ভোগের আয়োজনেও থাকছে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়া—খাজা, গুজিয়া, কালীঘাটের পেঁড়া এবং স্থানীয় মিষ্টি পুজোর প্রসাদে যুক্ত করা হচ্ছে।
অক্ষয় তৃতীয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণে নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। শুধু উদ্বোধনই নয়, এই মন্দির ভবিষ্যতে পর্যটন, ভক্তি ও সংস্কৃতির এক নতুন মিলনকেন্দ্রে পরিণত হবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।