বিশেষ: শুরু হচ্ছে চারধাম যাত্রা, রয়েছে অনলাইনে বুকিংয়ের সুযোগ, জেনেনিন বিস্তারিত

এই বছর চারধাম যাত্রা শুরু হতে চলেছে আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে। অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ তিথিতে গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী ধামের দরজা সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এরপর, ২ মে, ২০২৫ (শুক্রবার) সকাল ৭টায় কেদারনাথ ধামের দরজা উন্মোচিত হবে। যাত্রার শেষ ধাম বদ্রীনাথের দরজা খুলবে ৪ মে, ২০২৫ (রবিবার)।
সম্প্রতি মহাশিবরাত্রির পবিত্র দিনে ধার্মিক পণ্ডিতরা এই চারধাম যাত্রার শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করেছেন। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ এই পবিত্র যাত্রা করেন এবং মা গঙ্গা, মা যমুনা, ভগবান কেদারনাথ ও বদ্রীনাথের দর্শন লাভ করে ধন্য হন।
চারধামে পৌঁছানোর উপায়:
চারধাম যাত্রা মূলত হরিদ্বার অথবা দেরাদুন থেকে শুরু হয়। এই পবিত্র স্থানগুলিতে পৌঁছানোর প্রধান দুটি মাধ্যম হল – সড়কপথ এবং হেলিকপ্টার পরিষেবা।
সড়কপথে:
হরিদ্বার, দিল্লি, ঋষিকেশ এবং দেরাদুন থেকে সড়কপথে চারধাম যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। হরিদ্বার রেলওয়ে স্টেশন এই তীর্থস্থানগুলির নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন। সড়ক ও রেলপথে হরিদ্বার দিল্লি এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলির সাথে ভালোভাবে যুক্ত। এই তীর্থস্থানগুলিতে যাওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বাস পরিষেবাও উপলব্ধ রয়েছে।
হেলিকপ্টার:
দেরাদুনের হেলিপ্যাড থেকে চারধামের জন্য হেলিকপ্টার পরিষেবা পাওয়া যায়। যমুনোত্রী মন্দির থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে খরসালি পর্যন্ত হেলিকপ্টারে যাওয়া যায়। গঙ্গোত্রী মন্দিরের নিকটতম হেলিপ্যাড হল হর্ষিল, যা মন্দির থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বদ্রীনাথ এবং কেদারনাথ ধামের হেলিপ্যাড মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেই অবস্থিত।
চারধাম যাত্রার পুজোর জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন:
বদ্রীনাথ ও কেদারনাথের পুজোর জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে। যারা ঘরে বসে কেদারনাথ ধাম এবং বদ্রীনাথ ধামে পুজো দিতে ইচ্ছুক, তারা বদ্রী কেদার মন্দির কমিটির ওয়েবসাইট https://badrinathkedarath.gov.in -এ গিয়ে অনলাইন বুকিং করতে পারবেন। অনলাইনে পুজো দিলে ভক্তদের নামে কেবল পুজোই সম্পন্ন হবে না, সেইসঙ্গে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ ধাম থেকে প্রসাদও তাদের দেওয়া ঠিকানায় পাঠানো হবে।
অনলাইনে উপলব্ধ পুজোগুলি:
বদ্রীনাথ ধামে ব্রাহ্ম মুহুর্তে অনুষ্ঠিত মহাভিষেক ও অভিষেক পুজোর পাশাপাশি বেদ পাঠ, গীতা পাঠ, বিষ্ণু সহস্রনামাবলি, সন্ধ্যায় স্বর্ণ আরতি, রৌপ্য আরতি, গীত গোবিন্দ পাঠ এবং শয়ন আরতির জন্য অনলাইন বুকিং করা যাবে। একইভাবে, কেদারনাথের পূজা-অর্চনা, রুদ্রাভিষেক এবং সন্ধ্যা আরতির জন্য অনলাইনে বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
চারধাম যাত্রার গুরুত্ব:
চারধাম যাত্রা ভক্তদের চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানের দর্শন করায় – যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই স্থানগুলির গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে এবং প্রতি বছর অগণিত তীর্থযাত্রী এখানে আসেন।
-
যমুনোত্রী: দেবী যমুনাকে উৎসর্গীকৃত যমুনোত্রী মন্দির থেকে এই তীর্থযাত্রা শুরু হয়। মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য তীর্থযাত্রীদের জানকী চট্টি থেকে ৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়। তেহরি গাড়োয়ালের মহারাজা প্রতাপ শাহ এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।
-
গঙ্গোত্রী: গঙ্গা নদীর উৎসস্থল গঙ্গোত্রী হল দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। ৩,০৪৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দিরটি পবিত্র নদীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান।
-
কেদারনাথ: তৃতীয় ধাম হল কেদারনাথ, যা ভারতের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। ৩,৫৮৪ মিটার উচ্চতায় হিমালয় পর্বতমালায় ঘেরা এই মন্দিরটি বিশ্বাস অনুযায়ী মূলত পাণ্ডবদের দ্বারা নির্মিত এবং পরবর্তীতে আদি শঙ্করাচার্য এর সংস্কার করেন।
-
বদ্রীনাথ: চারধাম যাত্রার শেষ গন্তব্য হল বদ্রীনাথ ধাম, যা ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গীকৃত। এখানে ৩.৩ মিটার উঁচু কালো পাথরের বদ্রীনারায়ণের মূর্তি রয়েছে এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বৈদিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত।