অষ্টম বেতন কমিশন: সরকারি কর্মীদের বেতন কয়েকগুণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা

কোটি কোটি সরকারি কর্মচারীর জন্য এল এক গুরুত্বপূর্ণ খবর। যারা অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন, তাদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় সরকার চলতি বছরের জানুয়ারি ২০২৫ সালে অষ্টম বেতন কমিশন প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কমিশনের প্যানেল সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
তবে, সরকারি সূত্রে খবর, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সাল থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের পরিবর্তে একটি নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশের ১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী অধীর আগ্রহে এর বাস্তবায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন।
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের বেতন এক লাফে কয়েক গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, এই নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হলে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে বর্তমানে ডিএ-এর হার ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে, যখন নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল, তখন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করার আগে ডিএ-র সঙ্গে মূল বেতন যোগ করা হয়েছিল।
যদি অষ্টম বেতন কমিশনেও মূল বেতনের সঙ্গে ডিএ যুক্ত করা হয়, তাহলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর তুলনামূলকভাবে কম হবে। বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যাক।
সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে লেভেল ১-এর একজন সরকারি কর্মচারীর ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ ডিএ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করলে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ২৭,৯০০ টাকা (১৮,০০০ + (১৮,০০০ এর ৫৫%))।
পূর্ববর্তী বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সম্ভবত ১৮,০০০ টাকার পরিবর্তে এই ২৭,৯০০ টাকার উপর প্রয়োগ করা হতে পারে।
অতএব, যদি ১.৯২ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়, তাহলে একজন কর্মীর বেতন দাঁড়াবে ৫৩,৫৬৮ টাকা (২৭,৯০০ x ১.৯২)। যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ হয়, তাহলে বেতন বেড়ে হবে ৭১,৭০৩ টাকা (২৭,৯০০ x ২.৫৭)। আর যদি এই ফ্যাক্টর ২.৮৬ হয়, তাহলে বেতন আরও বেড়ে ৭৯,৭৯৪ টাকা পর্যন্ত হতে পারে (২৭,৯০০ x ২.৮৬)।
যদিও এই হিসেব কেবলমাত্র একটি প্রাথমিক ধারণা দিচ্ছে, অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মীদের বেতন কতটা বাড়বে তা নির্ভর করছে কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। তবে, কমিশনের ঘোষণা সরকারি কর্মীদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।