Weather: রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত দুর্যোগের পূর্বাভাস

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়ে উত্তর ওড়িশা উপকূল পর্যন্ত একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্র বাতাস প্রবেশ করছে। এই কারণে, আগামী বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জনসাধারণকে এই সময়কালে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে:

  • খোলা মাঠ ও জলাশয় পরিহার: বজ্রপাত শুরু হলে অবিলম্বে খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নীচ থেকে সরে এসে পাকা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করুন। এই স্থানগুলিতে বজ্রপাতের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
  • দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে: বজ্রপাতের পূর্বাভাস পেলে বা শুরু হলে দ্রুত কোনও পাকা ও শক্তপোক্ত বাড়িতে আশ্রয় নিন। দুর্বল কাঠামো বা ছাউনির নীচে থাকা বিপজ্জনক।
  • বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখুন: বজ্রপাত চলাকালীন ল্যান্ডলাইন ফোন, টেলিভিশন, মাইক্রোওয়েভ বা অন্য কোনও বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলি বিদ্যুতের পরিবাহী হতে পারে।
  • কৃষকদের জন্য বিশেষ সাবধানতা: মাঠে কর্মরত কৃষকদের ঝড় ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া মাত্রই কাজ বন্ধ করে নিকটবর্তী কোনও নিরাপদ ঘরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা মাঠে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
  • ধাতব বস্তু ও ছাতা পরিহার: বজ্রবিদ্যুৎ ধাতব বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় ধাতব বস্ত্র পরিধান করা বা ধাতব ছাতা ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
  • গাড়ি বা বিল্ডিং-এর নীচে অপেক্ষা: যদি আপনি রাস্তায় থাকেন, তাহলে বজ্রপাত শুরু হলে গাড়ির ভিতরে বসে থাকুন অথবা কোনও নিরাপদ বিল্ডিং-এর নীচে অপেক্ষা করুন। ট্র্যাফিক লাইট বা বিদ্যুতের খুঁটির নীচে দাঁড়ানো উচিত নয়।
  • পশু ও শিশুদের নিরাপত্তা: বাড়িতে পোষা প্রাণী ও ছোট শিশুদের পুকুর বা মাঠের কাছ থেকে সরিয়ে এনে ঘরের ভিতরে নিরাপদে রাখুন।
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: নিজের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও শহরবাসীকেও এই বিষয়ে সতর্ক করুন। কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ১০৮ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়কাল বজ্রপাতের মরশুম হিসেবে পরিচিত। এই সময় পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রগর্ভ মেঘ, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝড়বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে আগে থেকে অবগত থাকা এবং জনসচেতনতাই বজ্রাঘাতে প্রাণহানি রোধের প্রধান উপায়। তাই সকলকে সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়া দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।