রণক্ষেত্র ভাঙড়, পুলিশের প্রিজন ভ্যান উল্টে আগুন, ৫ বাইক ভস্মীভূত

দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড়ের শোনপুর বাজার এলাকা সোমবার দুপুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট) কর্মী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ভাঙচুর করে উল্টে দেয় এবং পাঁচটি পুলিশ বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু শোনপুর নয়, ভোজেরহাট, বৈরামপুর সহ বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে বরাবর একাধিক জায়গায় আইএসএফ কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। যার জেরে দীর্ঘক্ষণ বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রথমে মারমুখী জনতার সামনে পিছু হটলেও, পরে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী এসে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রূপেশ কুমার। পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বেশ কয়েকজন আইএসএফ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাঙড়ের শোনপুর বাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় ছিল।

এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এদিন মৌলালিতে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় আইএসএফের ডাকা একটি সভাকে কেন্দ্র করে। আইএসএফের অভিযোগ, তাদের প্রধান এবং বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির ওই সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ভাঙড় থেকে কর্মী-সমর্থকরা রওনা হলে পুলিশ তাদের পথ আটকায়। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যা ক্রমশ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আইএসএফ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে বলে অভিযোগ।

এরপর আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি ঘোষণা করেন যে এদিনই ভাঙড়ের শোনপুর বাজারে তারা সভা করবেন। সেই মতো শোনপুর বাজার এলাকায় আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে এবং সভার কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, সভাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকজন আইএসএফ কর্মী ও সমর্থক পুলিশকর্মীদের উপর চড়াও হন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টিও করা হয় বলে অভিযোগ। ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন, কয়েকজনের মাথাও ফাটে। এরপরই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ভাঙড়ে আগুনের শিখা দেখা যায়।

আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি অবশ্য বলেছেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে না, সেখানে আইএসএফ থাকবে না। তবে তাদের আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে তা ছয় মাস বা এক বছরও চলতে পারে বলে তিনি জানান।