পরকীয়া সম্পর্ক ও অশান্তি, স্ত্রীর উপর অভিমান করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ তপনের

চণ্ডীতলা নৈটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নৈটি পঞ্চানন তলায় খেলার মাঠের পাশে ছিল তপন ঘোষের বাড়ি। তপন (৪২) বেঙ্গালুরুতে গয়না তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। বাড়িতে স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ এবং দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

বাড়ির সামনে খেলার মাঠে খেলতে আসা এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তপনের স্ত্রী রিঙ্কু। মাসখানেক আগে রাহুল বাগ নামে ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়েও যান তিনি। তবে কয়েকদিন আগে রিঙ্কু আবার ফিরে আসেন। বেঙ্গালুরু থেকে দিন কয়েক আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন তপন। এই ঘটনা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র অশান্তি চলছিল। এলাকার প্রতিবেশীরাও এই সম্পর্কের কথা জানতেন।

সোমবার ভোর বেলায় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দানপতিপুর ১৪ নম্বর রেলগেটের কাছে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখায় রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তপন ঘোষ। তাঁর পকেটে থাকা আধার কার্ড দেখে পরিচয় শনাক্ত করে জিআরপি। তপনের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই তপন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

তপনের বাবা গোপীনাথ ঘোষ জানান, তিনি ছেলেকে আলাদা জায়গায় বাড়ি করে দিয়েছিলেন এবং বিয়ের পর সেখানেই থাকত তপন। ছেলে বাইরে কাজ করত এবং সেই সুযোগে তাঁর বৌমা মাঠে খেলতে আসা ছেলেদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে। অনেকেই তাঁকে জানিয়েছিল যে বৌমার বাড়িতে প্রায়ই বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যেত। এক দিন তিনি এসে দেখেন বাড়িতে তালা বন্ধ এবং বৌমা চলে গিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাঁর বৌমার স্বভাব ভালো ছিল না।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং পারিবারিক অশান্তির জেরেই তপন আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।