প্রায় ২০০ গ্রেফতার, জেনেনিন মুর্শিদাবাদে এখন ঠিক কী পরিস্থিতি?

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার আজ দাবি করেছেন যে মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি এলাকায় সমস্তরকম টহলদারি বজায় রাখার কথাও বলেছেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আজ মুর্শিদাবাদের হিংসার শিকারদের সঙ্গে দেখা করবেন। মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় আতঙ্কিত বহু হিন্দু পরিবার গঙ্গা পেরিয়ে মালদার বৈষ্ণবনগরে বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তাদের সঙ্গেই দেখা করবেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, সুকান্ত মজুমদার প্রথমে মালদায় বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে খোলা কন্ট্রোল রুমে যাবেন। এরপর তিনি পালেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এদিকে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে মুর্শিদাবাদের হিংসা কবলিত এলাকাগুলির পরিস্থিতি এখন শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে সুতি, সমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান এবং জঙ্গিপুরের পরিস্থিতি সোমবার শান্ত রয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারার অধীনে এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হিংসা কবলিত এলাকাগুলিতে এখনও রাস্তাঘাট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান সড়কগুলিতে যানবাহন তল্লাশি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেল থেকে সুতি, ধুলিয়ান, সমসেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর এলাকায় ওয়াকফ (সংশোধন) আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর হিংসার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে জেলার অন্য কোথাও থেকে নতুন করে কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ১৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। জানা গেছে, আজ CRPF-এর আইজি এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। সুতি ও সামশেরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও আধা সেনা টহল দিচ্ছে। চোখের সামনে ভয়াবহ তাণ্ডব দেখে এখনও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। উপদ্রুত এলাকায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। তবে এলাকায় দোকান, বাজার বন্ধ এবং যানবাহন চলাচলও কম রয়েছে। গতকাল থেকে সামশেরগঞ্জে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ নথিভুক্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “এই অশান্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার কোথাও থেকে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আমরা কোনও ধরণের ঝামেলাকে শান্তি বিঘ্নিত করতে দেব না।”
রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং RAF-এর সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানরা জাতীয় সড়ক এবং আশেপাশের গলিতে রুট মার্চ করছে। তবে বাজার এবং দোকানপাট বন্ধ থাকায় রাস্তাঘাট জনশূন্য দেখা যাচ্ছে এবং বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তাণ্ডবের সময় একটি পুলিশ ভ্যান সহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও দোকানপাটে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং পুলিশের কিয়স্ক পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সাম্প্রদায়িক হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষ ভাগীরথী নদী পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী মালদায় আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বাসস্থান ও খাবারের ব্যবস্থা করেছে এবং তাদের বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।