বিশেষ: মঙ্গলে কি প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে? নতুন গবেষণায় আশার আলো দেখালেন বিজ্ঞানীরা

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন এক গবেষণায় আশাব্যঞ্জক দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে সক্ষম লাইকেন নামক জীব মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের অনুরূপ পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট নোরিজ তাদের প্রতিবেদনে এই রোমাঞ্চকর আবিষ্কারকে লাল গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীদের ‘আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল’ বলে উল্লেখ করেছে।

এই গবেষণায় প্রথমবার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, মঙ্গল গ্রহে বিদ্যমান উচ্চমাত্রার আয়নাইজিং বিকিরণ, তীব্র ঠান্ডা এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ পাতলা বায়ুমণ্ডলের সংস্পর্শে আসার পরেও দুটি নির্দিষ্ট প্রজাতির লাইকেন জীবিত ও সক্রিয় থাকতে সক্ষম।

গবেষকরা আরও অবাক করা তথ্য দিয়েছেন যে, লাইকেনের ছত্রাক অংশটি বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। এর অর্থ হলো, তারা কেবল বেঁচে ছিল না, বরং কার্যকারিতাও বজায় রেখেছিল। উল্লেখ্য, লাইকেন কোনো একক জীব নয়, বরং ছত্রাক, শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার মধ্যে একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল অংশীদারিত্ব। তাদের গঠন অত্যন্ত সহনশীল প্রকৃতির হওয়ায় তারা ইতিমধ্যেই মরুভূমি ও অ্যান্টার্কটিকার মতো চরম পরিবেশেও বসবাস করতে পারে।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘ডিপ্লোসচিস্টেস মাসকোরাম’ ও ‘সেট্রারিয়া অ্যাকুলেটা’ নামের দুটি বিশেষ লাইকেন প্রজাতির ওপর মনোযোগ দেন। তাদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকার কারণেই এই দুটি প্রজাতিকে নির্বাচন করা হয়েছিল।

গবেষকরা মঙ্গল গ্রহের পরিবেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে একটি ভ্যাকুয়াম চেম্বারে এই লাইকেনগুলোকে রাখেন। সেই চেম্বারে শক্তিশালী সৌর কার্যকলাপের এক বছরের বিকিরণের মাত্রাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লাইকেনগুলো পাঁচ ঘণ্টা ধরে মঙ্গলের অনুরূপ চাপ, হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রা এবং ক্ষতিকর এক্স-রে বিকিরণের সংস্পর্শে আসে। গবেষণার ফলাফল ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর।

এই লাইকেনগুলোর মধ্যে ‘ডি মাসকোরাম’ নামক প্রজাতিটি বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় থাকতে সক্ষম হয়। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে যে, এই ধরনের চরম পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জৈবিক প্রক্রিয়াও চালিয়ে যেতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক কাজা স্কুবালা বলেছেন, “আমাদের গবেষণাতেই প্রথমবারের মতো দেখা গেছে যে, লাইকেন মঙ্গলের মতো পরিবেশে নিজেদের বিপাক প্রক্রিয়া সচল রাখতে পারে। ডি মাসকোরাম নামের লাইকেন শুধু বেঁচে থাকতেই সক্ষম নয়, বরং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করতে পারে।”

গবেষকরা ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানে প্রকৃত মঙ্গল গ্রহের পরিবেশে এই ধরনের জীব কীভাবে আচরণ করে, তা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আইএমএ ফাঙ্গাস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এই আবিষ্কার মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশা জাগিয়েছে এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।