ইউটিউব রিলেই পর্দাফাঁস! ৬ মাস আগের হারানো গয়না উদ্ধার, গ্রেফতার প্রাক্তন পরিচারিকা

দীর্ঘ ছয় মাস আগে বাড়ি থেকে চুরি গিয়েছিল সোনার গয়না। অথচ সেই বিষয়ে বিন্দুুমাত্র আঁচ করতে পারেননি গৃহকর্ত্রী। তবে সম্প্রতি একটি ইউটিউব রিল সমস্ত রহস্যের পর্দা ফাঁস করে দিল। রিলে নিজের চুরি যাওয়া গয়না পরিহিত অবস্থায় প্রাক্তন পরিচারিকাকে দেখতে পান অভিযোগকারিণী। এরপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ পরিচারিকার বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া গয়না উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত পরিচারিকাকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার বেহালার ইউনিক পার্ক এলাকায়।
অভিযোগকারিণীর নাম সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়। ৩৫ বছর বয়সী পূর্ণিমা মণ্ডল দীর্ঘ তিন বছর ধরে সঞ্চিতার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি কাজ ছেড়ে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে কাজ করার সুবাদে সঞ্চিতার সঙ্গে পূর্ণিমার বেশ ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পূর্ণিমা সঞ্চিতাকে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের কথাও জানিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের রিল ভিডিও শেয়ার করতেন তিনি। মাঝে মাঝে ভিডিওর কমেন্ট পড়তে অসুবিধা হলে সঞ্চিতার সাহায্য নিতেন পূর্ণিমা।
কাজ ছেড়ে দেওয়ার পরেও সঞ্চিতা মাঝে মাঝেই ইউটিউবে পূর্ণিমার ভিডিও দেখতেন। সম্প্রতি একটি রিলে তিনি দেখতে পান তার নিজের সোনার গয়না পরে রয়েছেন পূর্ণিমা। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই টনক নড়ে সঞ্চিতার। তিনি তড়িঘড়ি আলমারি খুলে দেখেন এবং বুঝতে পারেন যে সেই গয়নাগুলি সেখানে নেই।
এরপর আর দেরি না করে সঞ্চিতা পর্ণশ্রী থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চুরির মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ পূর্ণিমা মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং সেখান থেকে খোয়া যাওয়া গয়না উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এরপরই চুরির অপরাধে পরিচারিকা পূর্ণিমা মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অপরাধের নতুন একটি দিক উন্মোচন করলো। অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার পর সেই ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার ফলে অপরাধীরা নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে পা দিচ্ছে, এমন উদাহরণ ক্রমশ বাড়ছে। এই ঘটনায় ইউটিউব রিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি রহস্যের সমাধান হল এবং অভিযুক্ত ধরা পড়ল।