“এখন অঙ্ক পড়াবেন কে?”-সুপ্রিম–রায়ে চাকরি গিয়েছে ৮ জনের, চিন্তায় প্রধান শিক্ষক

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেল গড়বেতার ঐতিহ্যবাহী ব্যানার্জীডাঙা হাইস্কুল। আদালতের নির্দেশে স্কুলের আট জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে ছয় জন শিক্ষক এবং দু’জন শিক্ষাকর্মী। উদ্বেগের বিষয় হল, বরখাস্ত হওয়া ছয় শিক্ষকের মধ্যে পাঁচজনই বিজ্ঞান বিভাগের এবং সেই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ছিলেন গণিতের শিক্ষক। বর্তমানে স্কুলটিতে একজনও অঙ্কের শিক্ষক রইলেন না। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যুৎ চক্রবর্তী শনিবার অসহায়তা প্রকাশ করে বলেন, ‘কী যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। একইসঙ্গে ছয় জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও দু’জন শিক্ষাকর্মী অনুপস্থিত। এর দু’মাস আগেই কলেজের চাকরি পেয়ে আরও এক শিক্ষক স্কুল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে আমরা মাত্র তিনজন গণিতের শিক্ষক পেয়েছিলাম, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তাঁদের তিনজনের চাকরিই চলে গেল।’

তিনি আরও জানান, ‘স্কুলে এখন একজনও অঙ্কের শিক্ষক নেই। বাধ্য হয়ে ফিজিক্স ও কেমিস্ট্রির শিক্ষকদের দিয়ে নিচু ক্লাসের অঙ্কের ক্লাসগুলি কোনোমতে চালানো হচ্ছে। কিন্তু নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির অঙ্কের ক্লাস কে নেবেন, তা আমরা ভেবে পাচ্ছি না।’ প্রধান শিক্ষক স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘স্কুলে প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আগে শিক্ষক সংখ্যা চল্লিশ ছিল, এখন আরও ছয় জন কমে যাওয়ায় স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল বাঁচাতে আমরা আমাদের শিক্ষিত প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের কাছে স্বেচ্ছাসেবার আবেদন জানাব। যদি তাঁরা এসে কিছু ক্লাস নেন, তাহলে স্কুল এবং পড়ুয়া উভয়ই উপকৃত হবে।’

এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে আজ রাজ্যজুড়ে বহু ছাত্রছাত্রী শিক্ষকতার পেশায় প্রতিষ্ঠিত। স্কুলের এই করুণ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন প্রাক্তন ছাত্ররাও। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব চিন্তার বিষয়। স্কুলে একজনও অঙ্কের শিক্ষক নেই। আমার ছেলেও এ বছর ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। কী হবে, তা ভেবে পাচ্ছি না। স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক-শিক্ষিকা তাপস ঘোষ, আতেকা বানু ও সুতপা পড়ুয়া— প্রত্যেকেই অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের উপর অগাধ ভরসা করত। এখন একটা বড় সংকট তৈরি হল।’

ঐতিহ্যবাহী ব্যানার্জীডাঙা হাইস্কুলের এই শিক্ষক সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ, বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং উদ্বিগ্ন প্রাক্তনরা।