৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়! প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ কার্ড আনছে কেন্দ্র, মিলবে বেশ কিছু সুবিধা

কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এক নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে। এবার প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ‘সিনিয়র সিটিজেনশিপ কার্ড’ আনা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকরা বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা লাভ করতে পারবেন বলে জানা গেছে।
ভারতে বর্তমানে নাগরিকদের পরিচয় এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের জরুরি নথি রয়েছে, যার মধ্যে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং প্যান কার্ড অন্যতম। এবার প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই নতুন কার্ডটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
ভারতে, ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পরে রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রবীণ নাগরিকত্ব কার্ড নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র জারি করা হয়। এই কার্ডটি প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য আধার কার্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ৬০ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে। পাশাপাশি, তাকে ভারতীয় নাগরিক এবং কোনো একটি রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
প্রবীণ নাগরিকরা এই কার্ডের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করতে পারবেন। অফলাইনে আবেদন করার জন্য ব্যক্তিকে রাজ্যের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা ‘সেবা কেন্দ্র’-এ যেতে হবে এবং আবেদনপত্রের সঙ্গে ১০ টাকা জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদনের জন্য ভারতের জাতীয় পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘সিনিয়র সিটিজেন আইডি কার্ড’ লিখে সার্চ করতে হবে। এরপর আবেদনপত্রের পৃষ্ঠায় গিয়ে ‘বয়স্ক নাগরিকদের পরিচয়পত্র প্রদানের জন্য আবেদনপত্র’ লিঙ্কে ক্লিক করে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে।
সিনিয়র সিটিজেনশিপ কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় আবেদনকারীর কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট বা রেশন কার্ডের মতো পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও প্যান কার্ডও জরুরি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই সিনিয়র সিটিজেনশিপ কার্ডের মাধ্যমে প্রবীণ নাগরিকরা একাধিক সুবিধা পাবেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বছরে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ছাড় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা। এছাড়াও, হাইকোর্টগুলিতে শুনানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার এবং সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগও মিলতে পারে।
কেন্দ্র সরকারের এই নতুন উদ্যোগ প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও সুরক্ষিত করবে বলে আশা করা जाচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা লাভ করতে পারবেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে সহায়ক হবে।