পুলওয়ামার শহিদের মেয়ের বিয়ে দিলেন ‘স্পিকার ওম বিড়লা’! পালন করলেন ‘মামা’-র ভূমিকা, তদারকিও করলেন বিয়ের অনুষ্ঠানের

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় শহিদ হয়েছিলেন জওয়ান হেমরাজ মীনা। সেই কঠিন সময়ে তাঁর কিশোরী মেয়ে ও স্ত্রীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ঘটনার ছয় বছর পর নিজের কথা রাখলেন তিনি। দাঁড়িয়ে থেকে শহিদ হেমরাজের মেয়ে রীনা মীনার বিয়ে দিলেন এবং পালন করলেন মামার ভূমিকা। শুধু তাই নয়, গোটা বিয়ের অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে তদারকিও করেন তিনি।
শুক্রবার রাজস্থানের কোটার সাঙ্গোদ গ্রামে রীনার বিবাহ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ওম বিড়লা। কোটা তাঁর লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় এই অঞ্চলের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ রয়েছে। সেখানে কনের মায়ের ভাইয়ের ভূমিকায় হিন্দু রীতি ‘ভাত’ বা ‘মাইরা’ পালন করেন তিনি। এই আন্তরিকতা ও কর্তব্যবোধের জন্য তিনি সকলের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের বিদ্যুৎ মন্ত্রী হীরালাল নাগরও।
২৫ বছর বয়সি রীনা মীনার বাবা হেমরাজ ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি গোষ্ঠীর আত্মঘাতী হামলায় শহিদ হন। হিন্দু বিবাহে ‘ভাত’ বা ‘মাইরা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি, যেখানে ভাই তাঁর বোনের মেয়ের বিয়েতে উপহার ও আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। এই রীতি মেনেই শহিদের স্ত্রী মধুবালার ভাইয়ের স্থানে দেখা যায় ওম বিড়লাকে। তিনি এবং হীরালাল নাগর মধুবালাকে উপহারস্বরূপ একটি ওড়নি ও অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন। মধুবালাও ভাইকে সম্মান জানিয়ে তাঁদের কপালে তিলক পরিয়ে দেন এবং আরতি করেন।
লোকসভার স্পিকার শুধু উপহার দেওয়াই নয়, মধুবালার ভাইয়ের মতোই বিয়ের সমস্ত সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহিদ হেমরাজের আত্মত্যাগ দেশের গর্ব এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকাটা তাঁর কর্তব্য ও ভালোবাসার জায়গা থেকেই আসে।
শুধু এই একটি অনুষ্ঠানই নয়, গত কয়েক বছর ধরে প্রতি রাখী পূর্ণিমাতেও ওম বিড়লা হেমরাজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে পরিবারটির সঙ্গে তাঁর এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। স্পিকারের এই মানবিক দৃষ্টান্ত সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে এক অনুপ্রেরণা।