পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ পেল GI এর স্বীকৃতি

বাংলার রসগোল্লা এবং মিহিদানার পর GI ট্যাগ পেল পুরুলিয়ার ছৌ নাচের মুখোশ। বাংলায় অনুষ্ঠিত এই ছৌ নাচ শুধু জনপ্রিয় নয় ,বরং গোটা দেশে এর অনেক চাহিদা রয়েছে। আর এই জনপ্রিয়তা ও চাহিদার জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক ক্ষেত্রে উৎপন্ন বিশেষ ধরণের জিনিসের জন্য GI ট্যাগ দিয়েছে। বাগমুন্ডির চড়িদা গ্রামের 31 জন শিল্পীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই GI ট্যাগের সংখাপত্র।

বিখ্যাত ছৌ শিল্প গম্ভীর সিংহ প্রথম ছৌ নিত্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন। তার এই কাজের জন্য 1981 সালে তাকে পদ্মশ্রী দেওয়া হয়। তার পর থেকেই ধীরে ধীরে এই ছৌ নাচ সারা দেশের কাছে জনপ্রিয় হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের কাল থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি গ্রামের শিল্পীদের কাছে একটি বড় পাওনা। ইতিহাস থেকে জানা , অষ্টাদশ শতকের শেষে দিকে বাগমুন্ডির রাজপরিবার সূত্রধর সম্প্রদায়কে প্রতিমা গড়ার জন্য বর্ধমান জেলা থেকে নিয়ে এসেছিলেন। জানা যায় এই প্রতিমা শিল্পরাই প্রথম ছৌ -এর মুখোশ বানান।

প্রথমে ছৌ -এর মুখোশ তৈরি করা হতো পাখির পালক দিয়ে। পাখির পালকের মুখোশ দেখতে খুব সুন্দর হলেও ওজনে খুব ভারী হত। এখন কাগজ , মাটি ও কাপড়ের সংমিশ্রনে হালকা মুখোশ তৈরি হয়।

পুরুলিয়ার মুখোশ GI ট্যাগ পাওয়ার পর রাজ্যের পশিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন ,এটা ওই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।এই স্বীকৃতি চাও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুতূপূর্ণ ভূমিকা নেবে।