“মাত্র ১২ ঘণ্টা সময়ে বদলে গিয়েছিল সব”-জীবনের কঠিন সময়টা কীভাবে কেটেছে ইমরানের?

কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমির জীবনেও তেমনই এক কঠিন মুহূর্ত এসেছিল। ২০১৪ সালে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আয়ানের শরীরে মারণ ব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, ছোট্ট আয়ানের একটি কিডনিও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল। সেই কঠিন সময়ে অভিনেতার মানসিক যন্ত্রণা ও লড়াইয়ের কথা তিনি নিজের লেখা বইয়ে তুলে ধরেছেন।
সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে ইমরান হাশমি সেই ভয়াবহ সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, যেদিন প্রথম জানতে পারেন তাঁর আদরের ছেলে ক্যানসারে আক্রান্ত, সেই দিনটির কথা তিনি আজও মনে করতে চান না। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সাজানো জীবন সম্পূর্ণভাবে পাল্টে গিয়েছিল।
ইমরান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানান, সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ভাভনানি সর্বদা তাঁকে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছিলেন। অভিনেতা তাঁর ছেলের কাছেও এই কঠিন বাস্তবতার কোনও অংশ গোপন রাখতে চাননি। সেই কারণেই তিনি নিজের লেখা বইতে সেই যন্ত্রণাময় দিনগুলোর প্রতিটি কথা বিস্তারিতভাবে লিখে রেখেছেন, যাতে বড় হয়ে তাঁর ছেলেও সেই সময়ের কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং জীবনের মূল্য অনুধাবন করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে আয়ানের বয়স পনেরো বছর। জীবনের বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এলেও, ছেলের সেই কঠিন অসুস্থতার দিনগুলো আজও ইমরানকে গভীরভাবে ভাবায়। অভিনেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জীবনের সেই অধ্যায় কখনোই তাঁর স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না।
পডকাস্টে ইমরান সেই ভয়াবহ দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। একদিন দুপুরে পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে যখন তিনি আহার করছিলেন, তখনই কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখে তিনি প্রথম সন্দেহ করেন যে তাঁর ছেলের শরীরে ক্যানসারের বাসা বেঁধেছে। এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে তিনি ছেলেকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। আর তার পরের মাত্র বারো ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের স্বাভাবিক জীবন এক ভয়ংকর অনিশ্চয়তার আবর্তে পড়ে যায়।
টানা পাঁচ বছর ধরে সেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেছেন ইমরান ও তাঁর পরিবার। দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন আয়ান সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে সেই ভয়ংকর দিনগুলো অভিনেতাকে জীবনের এক গভীর শিক্ষা দিয়েছে, যা তিনি কখনোই ভুলতে পারবেন না।