অন্য ধর্মের যুবকের সঙ্গে দেখে বোরকা পরা তরণী ও যুবককে হেনস্থা, গ্রেফতার ৫ জন

ভারতের কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালুরুতে এক তরুণীকে অন্য ধর্মের যুবকের সঙ্গে দেখতে পাওয়ায় হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই যুবককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার (১১ই এপ্রিল) শহরের একটি পার্কের বাইরে একটি স্কুটারে বসেছিলেন ওই তরুণী ও যুবক। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি ও কিশোর এসে তাদের ঘিরে ধরে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে শুরু করে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের টি-শার্ট পরিহিত যুবক এবং বোরকা পরিহিত তরুণী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন, যারা তাদের ঘিরে রেখেছেন। তাদের মধ্যে একজন তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি যে এখানে এসেছেন, সে বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যরা অবগত আছেন কিনা। অন্য একজন যুবককে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী এক তরুণীর সঙ্গে পার্কে ঘুরতে এসেছেন। ভিডিওতে আরও শোনা যায়, একজন ব্যক্তি তরুণীকে হুমকি দিয়ে বলছেন, “বোরকা পরে যুবকের সঙ্গে পার্কের বাইরে বসে আছেন। আপনার কি লজ্জা নেই?”

স্থানীয় পুলিশের ডেপুটি কমিশনার গিরিস এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, “ওই যুগল একটি স্কুটারে বসে ছিলেন, যখন পাঁচজন ব্যক্তি এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মেয়েটি বোরকা পরিহিত ছিলেন। আমরা মেয়েটির কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি, এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।”

যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে, তবে অপর একটি ভিডিওতে ওই যুবককে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে মারধর করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোরও রয়েছে। পুলিশ কমিশনার গিরিস জানিয়েছেন, “তারা মূলত ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে সে কেন সেখানে বসে ছিল। আমরা তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখব।”

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খার্গে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার সরকার এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ ‘সহ্য’ করবে না। তিনি বলেন, “এটি বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশ নয়। কর্ণাটক একটি প্রগতিশীল রাজ্য।” মন্ত্রীর এই মন্তব্য কর্ণাটক সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনাটি ব্যাঙ্গালোরের মতো একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল শহরে ধর্মীয় বিদ্বেষের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং আশা করা যাচ্ছে, দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।