“৮ কুইন্টাল গাঁজা উদ্ধার”-মাদক পাচার মামলায় ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) দায়ের করা মাদক সংক্রান্ত একটি মামলায় পাঁচজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান জেলা মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক দোষীকে ব্যক্তিগতভাবে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার এই পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন – হরেকৃষ্ণ বালা ওরফে মরণ বালা ও তাঁর ছেলে শুভঙ্কর বালা ওরফে শুভ, যারা পূর্বস্থলী থানার দশঘড়িয়ার বাসিন্দা। এছাড়াও খাম্বি সিং, বুম্বা সিং ও মতিলাল সিং-কেও কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর শুভঙ্কর বালা ছাড়া বাকি চারজন অভিযুক্ত জেলেই ছিলেন। শুভঙ্করকে সুপ্রিম কোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছিল। তবে বুধবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে ফের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্ধমান জেলা মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতের বিচারক মনোজ কুমার রাই বৃহস্পতিবার এই পাঁচজনকে নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইনের মামলায় এই সাজা শোনান।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ৩০শে জানুয়ারি এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পায় যে মণিপুর থেকে একটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পূর্বস্থলীতে আনা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এসটিএফের একটি দল ওইদিন দুপুর থেকে পূর্বস্থলীর সুলুন্টু মোড়ের কাছে নজরদারি শুরু করে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, হরেকৃষ্ণ বালা ওরফে মরণ বালা ও তার ছেলে শুভঙ্কর বালার কাছে ওই গাঁজার চালান পৌঁছানোর কথা। সেই মতো তাদের দু’জনকে আগেই আটক করা হয়। তারাই এসটিএফের গোয়েন্দাদের সেই ট্রাকটি চিনিয়ে দেয়।
এরপর এসটিএফের তদন্তকারীরা ট্রাকটিতে তল্লাশি চালালে হতবাক হয়ে যান। চালকের কেবিনের পিছনে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন কুঠুরি থেকে থরে থরে সাজানো প্রায় ৫৬টি গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার হয়। এসটিএফ কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে সেই গোপন কুঠুরি কেটে গাঁজার প্যাকেটগুলি বের করেন। উদ্ধার হওয়া ৫৫টি প্যাকেটে মোট ৮২৪ কেজি ২০০ গ্রাম মণিপুরী গাঁজা ছিল। ট্রাকটিতে মণিপুরের কয়েকজন বাসিন্দাও ছিলেন। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে এসটিএফের পক্ষ থেকে পূর্বস্থলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এসটিএফের আইনজীবী অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানান, ‘এসটিএফের কাছে খবর আসে মণিপুর থেকে গাঁজা নিয়ে আসা হচ্ছে এবং সেই গাঁজা পূর্বস্থলীতে হরেকৃষ্ণ বালা ও তার ছেলে শুভঙ্কর বালার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। এসটিএফ গোপনে সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর মণিপুর থেকে একটি ট্রাক সেখানে পৌঁছালে সেটিকে আটক করা হয় এবং তাদের দেখানো জায়গা থেকে ড্রাইভার কেবিনের পিছনে তৈরি একটি অতিরিক্ত কুঠুরি থেকে ৫৬টি প্যাকেটবন্দি গাঁজা উদ্ধার হয়। তদন্তে জানা যায়, মণিপুরের সুরজিৎ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই গাঁজা আনা হত। এই চক্রটি ওড়িশা ও মণিপুর থেকে গাঁজা এনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করত। হরেকৃষ্ণ ও তার ছেলে শুভঙ্কর মণিপুর থেকে গাঁজা আনার বরাত দিত। হোয়াটসঅ্যাপে ট্রাকের চালকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়েছে। হরেকৃষ্ণ নিজেও স্বীকার করেছে যে তার বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।’ যদিও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী গুরুদাস ব্যানার্জী জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।