SPORTS: ২-০ তে পিছিয়ে পড়েও মেসির জাদুতে জয়, যেন বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ?

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের স্মৃতি আজও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মনে শিহরণ জাগায়। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন।

এবার ইন্টার মায়ামির জার্সিতে প্রায় আড়াই বছর আগের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন লিওনেল মেসি। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতোই বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলস এফসির বিরুদ্ধেও দুটি গোল করলেন মেসি এবং দলকে জেতালেন। কাকতালীয়ভাবে বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের গোলরক্ষক ছিলেন হুগো লরিস, আর এই ম্যাচেও লস অ্যাঞ্জেলসের গোলপোস্টের নিচে ছিলেন সেই লরিস।

বিশ্বকাপের ফাইনালে লরিস যেমন মেসিকে থামাতে পারেননি, এদিনও ব্যর্থ হলেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মায়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাচেরানো উল্লাসে মুষ্টি আকাশে ছুঁড়ে দেন।

তবে একটি জায়গায় পার্থক্য ছিল। আগেরটি ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল, আর বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছিল কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ। প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় এই ম্যাচে মায়ামিকে জিততেই হত। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে লস অ্যাঞ্জেলস ব্যবধান ২-০ করে ফেললে মায়ামির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল।

কিন্তু সব অনিশ্চয়তা দূর করে নাটকীয়ভাবে তিন গোলের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল মায়ামি। দ্বিতীয় লেগে তারা ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ফল দাঁড়িয়েছে ৩-২।

বৃহস্পতিবার মায়ামির ঘরের মাঠ চেজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৯ মিনিটে অ্যারন লংয়ের গোলে এগিয়ে যায় লস অ্যাঞ্জেলস। এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে তারা ২-০ ব্যবধানে লিড নেয়। মায়ামিকে সেমিফাইনালে যেতে হলে অন্তত তিনটি গোল করতে হত, যা একসময় অসম্ভব মনে হচ্ছিল।

কিন্তু মেসি থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়।

৩৫ মিনিটে গোলের সূচনা করেন মেসি। ১৮ গজ বক্সের সামনে থেকে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান এবং মায়ামির সমর্থকদের মনে নতুন করে আশা জাগান। এটি ছিল মায়ামির হয়ে মেসির ৪৮তম ম্যাচে ৪১তম গোল।

৬১ মিনিটে নোয়া অ্যালেন অপ্রত্যাশিতভাবে মায়ামিকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বক্সের বাইরে থেকে মেসির বাড়ানো বল ধরে তিনি চিপ করেন, যা লস অ্যাঞ্জেলসের গোলরক্ষক লরিস এবং মায়ামির ফেডেরিকো রেডোন্ডো – দুজনের মাথা ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

৬৭ মিনিটে মেসির পাস থেকে লুইস সুয়ারেজ হেডে গোল করলেও, অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।

মায়ামি জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে। ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। ভিএআর চেকের পর রেফারি হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত দেন। ঠান্ডা মাথায় স্পটকিক থেকে গোল করে মায়ামিকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি এবং দলের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মায়ামির গোলরক্ষক অস্কার উস্তারি দুটি অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। সেমিফাইনালে মেসির দলের প্রতিপক্ষ মেক্সিকোর ক্লাব পুমাস অথবা ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস।