চাকরিহারাদের মহামিছিল, শুধু শিক্ষক নয়, পথে নামার ডাক দিলেন ডাক্তার ও বুদ্ধিজীবীরাও

কসবায় ডিআই অফিসের সামনে চাকরিহারাদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার রাজপথে নামছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এক বিশাল মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার কসবায় ডিআই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে চাকরিহারাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি বাধে। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আজ এই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এই মিছিলে শুধুমাত্র চাকরিহারারাই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকেও সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের পক্ষ থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, ডাক্তার, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও এই প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে, কসবার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কলকাতার পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা স্বয়ং নবান্নে বসে এই ঘটনাকে ‘ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার আগের ও পরের সমস্ত ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার পর বুধবার রাতভর চাকরিহারাদের একাংশ সল্টলেকের এসএসসি ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন, অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা পথে নামতে দ্বিধা করবেন না। এসএসসি ভবনের সামনে অবস্থানরত চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবি, এসএসসিকে অবিলম্বে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, এসএসসি যেহেতু শুধুমাত্র সুপারিশকারী সংস্থা, তাই এই তালিকা প্রকাশ করা তাদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে তাঁরা শিক্ষকদের উপর হামলার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আজকের মহামিছিলের পর, আগামী শুক্রবার চাকরিহারা শিক্ষকরা এসএসসি ভবন অভিযানের কর্মসূচি রেখেছেন। সেখান থেকেই তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ডাকা বিকাশ ভবনের বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। আজকের মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং পুলিশের তরফ থেকে কোনওরকম বাধা না দেওয়ার বিষয়ে আন্দোলনকারীরা আশাবাদী।