মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ প্রতিবাদ, এখনও থমথমে জঙ্গিপুর, গ্রেফতার ২২, চলছে পুলিশি টহল

ওয়াকফ বিলের বিরোধিতায় মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসা ছড়িয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবারও এলাকায় পুলিশি টহলদারি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ওয়াকফ (সংশোধিত) আইনের প্রতিবাদে জঙ্গিপুরের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নেয় বলে অভিযোগ। বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করা হয় এবং রাস্তার অবরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

বুধবার সকাল থেকেও থমথমে রয়েছে জঙ্গিপুরের পরিস্থিতি। রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল কম দেখা যাচ্ছে। দোকানপাট বেশিরভাগই বন্ধ। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। র‍্যাফ-সহ অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীও টহল দিচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতের বিভিন্ন অভিযানে ২২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং খুব শীঘ্রই আরও গ্রেফতারি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওয়াকফ বিল নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, এই বিল সংখ্যালঘুদের স্বার্থবিরোধী। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য সবরকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি রাজ্য সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এই মুহূর্তে জঙ্গিপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মানুষের মনে এখনও আতঙ্ক রয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছেন সকলে।