“দিদি আছে, দিদি আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবে!” ওয়াকফ নিয়ে মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি মমতার

ভোটের দামামা বাজতে এখনও বছরখানেক বাকি থাকলেও, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার (৯ এপ্রিল, ২০২৫) কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সংখ্যালঘু জৈন সম্প্রদায়ের ‘নবকার মহামন্ত্র দিবস’-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিতর্কের আবহে অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কেও আশ্বস্ত করেন।

ওয়াকফ সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আমি জানি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সংখ্যালঘুদের মনে একটা দুঃখ আছে। আপনারা ভরসা রাখুন, বাংলায় এমন কিছু হবে না যাতে বিভাজন হয়। সবাইকে একসঙ্গে থেকে বাঁচতে হবে। জিও, জিনে দো (বাঁচুন, বাঁচতে দিন)।” একইসঙ্গে, তিনি সমস্ত ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাঁচার বার্তা দেন।

উল্লেখ্য, প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সম্প্রতি সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতিও তাতে স্বাক্ষর করেছেন। এই ঘটনার পরেই দেশজুড়ে ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি সামিল হয়েছে। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে।

অন্যদিকে, ওয়াকফ নিয়ে গঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও তৃণমূল কংগ্রেস এই বিলের বিরোধিতা করেছে। এই পরিস্থিতিতে, যখন বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন, তখন সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় তৃণমূল যে আরও জোরালো অবস্থান নেবে, এমনটাই মনে করছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সেই ধারণাকে আরও দৃঢ় করল। তিনি নিজেকে সকলের ‘দিদি’ হিসেবে উল্লেখ করে সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তা দেন।

আগামীকাল মহাবীর জয়ন্তী। সেই উপলক্ষ্যে আয়োজিত জৈন সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতার বার্তা দেন। ওয়াকফ প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে তিনি সংখ্যালঘু মুসলিমদের সম্পত্তিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন এবং একইসঙ্গে সমস্ত ধরনের প্ররোচনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

মমতাকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা সবাই একসঙ্গে বাঁচার কথা বলুন। কেউ কেউ রাজনৈতিক প্ররোচনা দেয়। আমি বলছি, দিদি আছে, দিদি আপনাদের রক্ষা করবে। আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবে। কেউ উস্কানিতে পা দেবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রী বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ভারতে বিভাজন সৃষ্টির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার সময়েও বিভাজন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেই বিভাজনকেই এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মমতা বলেন, “বিভাজন তো আমরা করিনি। সেই স্বাধীনতার সময়ে হয়েছে। কেউ কেউ আপনাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিচ্ছে। তাতে পা দেবেন না।”

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে মমতার এই ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’র বার্তাকে ‘তোষণের রাজনীতি’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে তাদের বক্তব্য, এই আইন দরিদ্র মুসলমানদের সহায়ক হবে। তবে মুসলিম সমাজের একাংশের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে আসলে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র সরকার।

ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই সংখ্যালঘু দরদী বার্তা রাজনৈতিকভাবে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হয়, সেটাই এখন দেখার। ওয়াকফ বিতর্ক এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ যে আরও জটিল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।