আধার নিয়ে জালিয়াতির দিন শেষ! মোদি সরকারের নতুন আধার অ্যাপ, মুখের ছবিতেই হবে কাজ

মোদি সরকার এবার নিয়ে এল নতুন আধার অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে আধার সংক্রান্ত একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হতে চলেছে।

আধার ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র সরকার। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই নতুন অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। মনে করা হচ্ছে, এই অ্যাপটি চালু হওয়ার ফলে আধার কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হবে।

নতুন এই অ্যাপে কী কী সুবিধা থাকছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। এই অ্যাপের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, এবার থেকে ব্যবহারকারীরা মুখের ছবি ব্যবহার করেই নিজেদের আধার কার্ডের বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন। পাশাপাশি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে ডিজিটাল আধার কার্ডের মাধ্যমে সমস্ত কাজ অতি সহজেই সম্পন্ন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এই নতুন অ্যাপের বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই অ্যাপটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই মুখের আইডি যাচাই করে কাজ করবে। এর ফলে, আর কোনও ফিজিক্যাল কার্ড অথবা তার ফটোকপির প্রয়োজন হবে না। অ্যাপের সঙ্গে আধারের প্রধান পোর্টালটি সরাসরি যুক্ত থাকবে। এছাড়াও, একটি বিশেষ কিউআর কোড থাকছে, যার মাধ্যমে সব ধরনের জালিয়াতি সহজেই ধরা পড়বে। ফলে, এবার থেকে আধার কার্ড সঙ্গে নিয়ে ঘোরার ঝামেলা যেমন কমবে, তেমনই আধার কার্ডের ছবি নিয়ে এতদিন ধরে চলে আসা জল্পনারও অবসান হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই নতুন আধার ভেরিফিকেশন পদ্ধতির মাধ্যমে ইউপিআই পেমেন্টও অতি সহজে করা যাবে। এই অ্যাপটি চালু হওয়ার ফলে, পরিচয় প্রমাণ হিসেবে আর কাউকে আধার কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে না এবং কোনওরকম ফটোকপিও জমা দিতে হবে না। এমনকি, হোটেলে চেক ইন করার সময় বা কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এই আধার অ্যাপ ব্যবহার করেই কাজ সম্পন্ন করা যাবে।

গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুব শীঘ্রই এই অ্যাপটি চালু হয়ে যাবে। এর ফলে, দেশের সকল নাগরিকরাই নিজেদের আধার সংক্রান্ত কাজ এই একটি অ্যাপের মাধ্যমেই করতে পারবেন। এই অ্যাপে থাকা কিউআর কোডটি অত্যন্ত সুরক্ষিত, যা কোনওভাবেই জাল করা সম্ভব নয়। এটি শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর মুখের ছবি দিয়েই কাজ করবে, ফলে অন্য কারও পক্ষে এটিকে নকল করাও সম্ভব হবে না। মোদি সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে আরও একধাপ অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।