“কারও ২০ হাজার, কারও ৪০ হাজার”-বিদ্যুতের বিল নিয়ে মাথায় হাত অন্ডালের গ্রাহকদের

কয়েক বছর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে ‘গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছিলেন অন্ডালের খান্দরা গ্রাম পঞ্চায়েতের রুইদাস পাড়া, বাউরি পাড়া, প্রেস পাড়া-সহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ। এতদিন তাঁদের কোনও বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো না। তবে সম্প্রতি বিদ্যুৎ দফতর ওই সকল গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের আওতায় এনেছে। অভিযোগ, এর জেরেই চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকার বহু গ্রাহক। বিদ্যুৎ সংযোগের দিন থেকে বকেয়া বিল একসঙ্গে ধরিয়ে দেওয়ায় মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় তাঁদের।

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের দাবি, কারও কাছে ২০ হাজার টাকা, কারও কাছে ৩০ হাজার টাকা, আবার কারও কাছে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিল এসেছে। মোটা অঙ্কের বিল হাতে পেয়ে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা। অন্ডাল ব্লকের বাউরি পাড়ার বাসিন্দা ফাগু বাউরি, সুনিতা রুইদাস এবং প্রেস পাড়ার জলধর বাউরি, ভাদু রুইদাসরা এই বিষয়ে তাঁদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাঁরা আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই দিনমজুর। অনেকে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাই। আমাদের কারও পক্ষেই একসঙ্গে ৩০-৪০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল মেটানো কোনওভাবেই সম্ভব নয়। তাই আমরা বিদ্যুৎ দফতরের কাছে এই বকেয়া বিল মুকুব করার জন্য কাতর আর্জি জানাচ্ছি।’

একইসঙ্গে তাঁরা আরও জানান, তাঁদের কাছে যে বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিল এসেছে, তা সম্পূর্ণভাবে মুকুব করে যেন নিয়মিতভাবে নিয়মমাফিক বিল পাঠানো হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী বিলে যদি কোনও ছাড় থাকে, তবে সেই ছাড়ের পর যা বিল আসবে, তা তাঁরা পরিশোধ করতে রাজি আছেন।

এই বিষয়ে উখড়া বিদ্যুৎ দফতরের এক আধিকারিক জানান, ‘ওই সমস্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল। এত দিন তাঁরা বিলিং প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তবে আমরা ইতিমধ্যেই তাঁদের বিলে কিছু ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’

পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দুর্গাপুর বিভাগের ডিএম সাহেল হাসান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওই এলাকায় মোট ১৬ জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল দীর্ঘ দিন ধরে বকেয়া ছিল। আগে তাঁদের বিল পাঠানো হত, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা সেই বিল পরিশোধ করেননি। তবে বর্তমানে ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি মাসে অল্প অল্প করে বকেয়া বিলের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

তবে, বিদ্যুৎ দফতরের এই আশ্বাসে কতটা সুরাহা হবে, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের বকেয়া বিলের বোঝা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলবে বলেই আশঙ্কা করছেন তাঁরা।