SSC নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের রাজনীতি তুঙ্গে, শুভেন্দুর পাল্টা বার্তা: “২৬-এর মধ্যে বিজেপি এলে, এক মাসে তালিকা তুলে দেব আদালতে”

২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SSC-র ২০১৬ সালের নিয়োগ বাতিলের পর সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরি হারানো প্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। তবে, এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
🗣 শুভেন্দুর দাবি: “বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক মাসেই যোগ্যদের চাকরি ফেরত”
নেতাজি ইনডোরের সভার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান:
“২০২৬-এ যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তবে এক মাসের মধ্যে ওএমআর শিট খতিয়ে দেখে যোগ্যদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেব। আমাদের লক্ষ্য, যোগ্যদের সুবিচার দেওয়া। যেমন ১৯৮৪-র শিখ দাঙ্গার ক্ষেত্রে আমরা পারেছিলাম, এটাতেও পারব।”
💰 দুর্নীতির অভিযোগ: “৭০০ কোটি টাকা উঠেছে, ৮০% গেছে ভাইপোর কাছে”
বিজেপি নেতা আরও দাবি করেন, এই নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ অর্থ রাজ্যের প্রভাবশালী ‘ভাইপো’র কাছে গিয়েছে, বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন:
“CBI-এর তদন্তেই স্পষ্ট হয়েছে কারা কারা জড়িত। ওএমআর খুঁজে বের করার কারণেই আজ যোগ্য প্রার্থীরা নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে পারছে।”
📢 মমতার বার্তা: “রং দেখব না, যোগ্যদের পাশে থাকব”
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“আমি কোনও রং দেখি না — লাল, নীল বা গেরুয়া নয়। যোগ্যরা যাতে চাকরি ফিরে পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রয়োজনে আমাকে জেলে ভরে দিন, তবু আমি এই লড়াই থেকে সরব না।”
তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফেরানোর জন্য আইনিভাবে লড়বে।
🔍 রাজনীতির ছায়া SSC কাণ্ডে
এই ঘটনায় শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ‘নৈতিক দায়িত্ব’ ও ‘যোগ্যতা’-র প্রশ্নে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, শুভেন্দু সেখানে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপিকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছেন।
📌 উপসংহার
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই ধারণা। প্রার্থীরা চাইছেন, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আইনি পথেই চাকরি ফিরে পেতে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির মেরুকরণ যে আরও গাঢ় হবে, তা বলাই বাহুল্য।