“যোগ্যদের চাকরি কেউ কাড়েনি, আপনারা বাচ্চাদের মানুষ করুন স্কুলে যান…”পরামর্শ দিলেন মমতা!

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের গোটা প্যানেল বাতিলের পর ২৫ হাজারের বেশি চাকরিহারা শিক্ষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বহু যোগ্য শিক্ষকও রাতারাতি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, যা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে যোগ্য শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন কিনা, সেই প্রশ্ন বারবার উঠেছে। এবার বিক্ষোভ সমাবেশে এই বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ্যদের চাকরি হারানোর কোনও সম্ভাবনা নেই, এই আশ্বাস দিয়ে কার্যত তাঁদের স্কুলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্ল্যান A, B, C, D, সবই তৈরি আছে। আপনাদের চাকরি তো এখনও কেউ বাতিল করেনি। আপনারা আপনাদের কাজ করুন না। কেউ কি আপনাদের যেতে বারণ করেছে? দু’মাস একটু কষ্ট করতে হবে। চিন্তা নেই, এই দু’মাসের কষ্ট পুষিয়ে দেব। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা নিশ্চিন্ত থাকুন, ভরসা রাখুন। আপনারা বাচ্চাদের মানুষ করুন। আপনারা ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিন।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা যাতে চাকরি ফিরে পান, সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আপনারা তা পাবেন। যাঁদের ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে, তাঁরা নিশ্চয়ই চাকরি ফিরে পাবেন। আমি চাই মানবিক দিক বিবেচনা করে কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য, তা সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলুক। নিট কেলেঙ্কারি তো সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেনি। শুধু বাংলাকেই কেন টার্গেট করা হচ্ছে? যোগ্যদের চাকরি যাতে ফিরে আসে, আমরা প্রথমে স্পষ্টতা চাইব, আর যদি স্পষ্টতা না দেয়, তাহলে পথই পথ দেখাবে। যাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনে কলকাঠি নাড়তে গিয়ে যোগ্যদের চাকরি খাবেন না। এই আঘাত আমার উপর আঘাত, সরকারের উপর আঘাত। কেউ প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, যোগ্য শিক্ষকরা মুখ্যমন্ত্রীর এই পরামর্শ কতটা গ্রহণ করেন এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে কিনা।