“চাকরি বিক্রি হয়েছে, চুরি হয়েছে আমি জানিই না”, ভরা সভায় বললেন মমতা

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-র চাকরি বাতিল। এই ধাক্কায় বিপর্যস্ত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও হাজারো পরিবার। তবে সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানালেন— এই সংকটের সমাধানের জন্য রাজ্য সরকার তাঁদের পাশেই আছে।তিনি বলেন,“জীবন থাকতে কাউকে চাকরি হারাতে দেব না।”

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, নিয়োগ দুর্নীতি তাঁর চোখ এড়িয়ে ঘটেছে। চাকরি কেনাবেচা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন—“চাকরি বিক্রি হয়েছে, চুরি হয়েছে— আমি জানি না। তাও আমাকেই দোষারোপ করা হচ্ছে।“একটা কলমের খোঁচায় হাজার হাজার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা তো পাথর না, মানুষের কষ্ট বুঝি।”

চাকরিহারাদের হয়ে এবার ফের সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।তিনি বলেন,“আমরা পাঁচজন প্রবীণ আইনজীবীকে পাঠাচ্ছি— অভিষেক মনু সিংভি, কপিল সিবাল, রাকেশ দ্বিবেদী, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত ভূষণ। আমরা বিচার চাই, ব্যাখ্যা চাই।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান,“যারা প্রকৃত যোগ্য অথচ চাকরি হারিয়েছে, তাঁদের জন্য আমি পাঁচটি বিকল্প পথ ভাবছি।চাকরি দিতে আমার কোনও আপত্তি নেই, যারা খেয়েছে তাদের ঘৃণা করি।”

তিনি আরও বলেন—“সিপিএম, বিজেপি— কেউই আজ আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ত্রিপুরাতেও চাকরি গেছে, কথা দিয়ে কেউ তা ফেরায়নি। আমি কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

মমতার কথায়,“বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে। সবাইকে অযোগ্য বলার অধিকার কে দিয়েছে?” “বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে। সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য-অযোগ্য কাউকে বাছাই করেনি, আমাদেরকেও বাছতে দেয়নি।”“স্কুল চালাবে কে? শিক্ষকরা আজ কী করবেন?”এই পরিস্থিতিতে যাঁদের চাকরি গিয়েছে, তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট— “সংগ্রাম চলবে, বিকল্প খোঁজা হবে, এবং ন্যায়বিচার আদায় করাই লক্ষ্য।”