ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, BJP- নেতার বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা লাগালো আগুন

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভা ও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় মুসলিম ওয়াক্‌ফ সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মণিপুর। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি)-র এক নেতার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওই বিজেপি নেতা আসকার আলী, সংগঠনটির সংখ্যালঘু মোর্চার মণিপুর সভাপতি। ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে সমর্থন করার অভিযোগে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, থৌবাল জেলার লিলং এলাকায় ১০২ নম্বর জাতীয় সড়কে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী, আধাসামরিক বাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা দিয়ে লিলং হাওরেবিতে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

লিলং মণিপুরের সবচেয়ে বেশি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। রবিবার দুপুরের নামাজের পর রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় প্রতীকী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন মুসলিম এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এটিকে তাঁদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা দেওয়ার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।

কিছু এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। থৌবালের ইরোং চেসাবাতে সকালে নিরাপত্তা বাহিনী একটি মুসলিমদের সমাবেশ জোরপূর্বক বন্ধ করতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সমাজকর্মী ও সম্প্রদায়ের নেতা সাকির আহমেদ সমাবেশে অংশ নিয়ে ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।

ইম্ফল পূর্বের ক্ষত্রি আওয়াং লেইকাই, কৈরাং মুসলিম ও কিয়ামগেই মুসলিম এলাকা এবং বিষ্ণুপুর জেলার সোরাসহ অন্যান্য এলাকা থেকেও ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।