ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে সুর চড়াচ্ছে বাংলাদেশ, হিন্দুদের নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি BNP-র?

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী আইন ঘিরে প্রতিবাদে সরব হচ্ছে বাংলাদেশের একাধিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বিএনপি।গত ৬ এপ্রিল, হেফাজতে ইসলামি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারপর সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,“আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভারত সরকার ওয়াকফ আইন পুনর্বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।”এই মন্তব্য ঘিরে বাংলাদেশেই জল্পনা শুরু হয়েছে— ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ বলতে তিনি কি কোনো পালটা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিলেন?
সালাহউদ্দিন আরও বলেন—“ভারত একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ। ধর্মীয় অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া তার দায়িত্ব।”“এই আইন ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।”“এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, যারা বাংলাদেশের সরকারকে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারতীয় মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল।জামাতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে।
🏛️ ভারতের সংসদে কী ঘটেছিল?
ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল লোকসভা ও রাজ্যসভা— দুই কক্ষেই পাস হয়েছে।রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয় ১২৮-৯৫ ভোটে।লোকসভায় পক্ষে ছিল ২৮৮ জন, বিপক্ষে ২৩২ জন সাংসদ।৪ এপ্রিল রাতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হয়।
🕌 ওয়াকফ সম্পত্তি ও বিতর্ক কী?
ভারতে মোট ওয়াকফ সম্পত্তি: ৮.৭ লক্ষ
জমির পরিমাণ: ৯.৪ লক্ষ একর, বাজারমূল্য প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা
সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি উত্তরপ্রদেশে (২৭%), দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ (৮০,৫৪৮টি সম্পত্তি)
বাংলায় ওয়াকফের জমিতে রয়েছে:
১৫৮টি স্কুল
৪টি ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসা
১৯টি মুসলিম হস্টেল
৯টি হাসপাতাল
বীরভূমে একটি শপিং কমপ্লেক্স
কিন্তু এত কিছু থাকা সত্ত্বেও ওয়াকফ বোর্ডের বার্ষিক আয় মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা!
👉 বিজেপি বলছে, এর কারণ হলো ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও দুর্নীতি।
👉 আর তাই এই সংশোধনী আইন এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চালু করতে চায় সরকার।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের এই মন্তব্য ভারত সরকারের উপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ‘আঞ্চলিক সম্প্রীতি’ শব্দবন্ধের গভীরতাও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।