বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রকাশিত ভয়াবহ রিপোর্ট! আইসক্রিমে কেন্নো, চিপসে মরা ব্যাঙ’ থাকার ঘটনা!

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, ২০২৫ (World Health Day 2025)-এ প্রকাশিত এক ভয়াবহ সমীক্ষা রিপোর্ট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, আইসক্রিমের কৌটোয় কেন্নো থেকে শুরু করে ওয়েফার এবং চিপসের প্যাকেটে মৃত ব্যাঙের মতো বিষাক্ত বস্তু পাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সিরাপ জাতীয় মিষ্টি খাবারে নেংটি ইঁদুরেরও সন্ধান মিলেছে, যা শিশু থেকে বৃদ্ধ – সকল সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এই ভয়াবহ চিত্র শুধু স্থানীয় কোম্পানিগুলির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বহু খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের খাবারের মধ্যেও এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও বিষাক্ত বস্তুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সমীক্ষা রিপোর্টে প্রকাশ, গত তিন বছরে ৩৮ শতাংশ ভারতীয় ক্রেতা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিন অথবা তার কাছাকাছি সময়ে প্যাকেটজাত খাবার কিনেছেন। যার ভেতর থেকে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, ছত্রাক এবং অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু ও বস্তু পাওয়া গেছে। একটি কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম লোকালসার্কলস-এর নতুন সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

সমীক্ষায় সবচেয়ে বেশি অস্বাস্থ্যকর নমুনার সন্ধান মিলেছে পাউরুটিতে ছত্রাক এবং আটা-ময়দার প্যাকেটে পোকামাকড়। আর এই সমস্ত অভিযোগের বিপরীতে কোম্পানিগুলির একমাত্র সমাধান ছিল – হয় টাকা ফেরত দেওয়া, না হয় জিনিস পরিবর্তন করে দেওয়া। কিন্তু এত কিছুর পরেও দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মানের কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি।

সংস্থাটি ৩৪১টি জেলার ৪০,০০০ জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে এই বিস্তারিত রিপোর্টটি তৈরি করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, খারাপ সামগ্রী পাওয়ার পর বহু গ্রাহক সেই নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে ২৫ শতাংশ গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া হল, তাঁরা ওই নির্দিষ্ট খাবারটি পরিত্যাগ করলেও একই ব্র্যান্ডের অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করছেন।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ৯ জন গ্রাহকই ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানক কর্তৃপক্ষ (FSSAI) এবং রাজ্য খাদ্য দফতরকে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অনেক গ্রাহকের মতে, এই অভিযানগুলি কেবল নামমাত্রই হয়ে থাকে এবং সাধারণত সার্টিফিকেশন পুনর্নবীকরণের সময়ই কিছু তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়াও সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, এই বিষয়ে একটি কার্যকরী এবং সহজে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া তৈরি করা উচিত সরকারের।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১৯৫০ সালে ৭ এপ্রিলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই দিনটির গুরুত্ব স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, স্বাস্থ্যই হল ভবিষ্যতের প্রকৃত সম্পদ। কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করবে। একটি জাতির সুস্বাস্থ্যই হল একটি সমৃদ্ধ সমাজের মূল ভিত্তি।

একটি ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্থূলতা প্রতিরোধের উপরও জোর দিয়েছেন এবং ভোজ্যতেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগব্যাধি, বিশেষত স্থূলতাকে স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে মোদী বলেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪৪ কোটিতে পৌঁছাতে পারে, যা একটি ভয়াবহ চিত্র।