“আমাদের মাস্টারমশাই-দিদিমণিদের ফেরত চাই”-পথে নেমে মিছিল করল স্কুলের পড়ুয়ারা

এতদিন ধরে যে শিক্ষকরা তাদের পড়িয়েছেন, তাঁদের হঠাৎ করে চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না স্কুলের পড়ুয়ারা। সেই শিক্ষকদের তারা ফিরে পেতে চায়। এই দাবিতে শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা ব্লকের শেখালিপুর হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামল। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় আড়াইশো জন পড়ুয়া স্কুল ইউনিফর্ম পরেই এই মিছিলে অংশ নেয়।

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে ওই স্কুলের দশজন শিক্ষক-শিক্ষিকার নিয়োগ বাতিল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর শুক্রবার থেকেই ওই শিক্ষকরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু পড়ুয়ারা এই বিষয়টি মানতে নারাজ। এদিন তাদের মিছিলের স্লোগান এবং হাতে ধরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনে একটাই দাবি—‘শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির কিছু পড়ুয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এই মিছিলের আয়োজন করে। মিছিলের জন্য ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির খরচও পড়ুয়ারাই বহন করেছে, নিজেদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এবং চাঁদা তুলে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী আখতারা খাতুন নামে এক ছাত্রী বলে, “স্কুলের ওই দিদিমণি আর মাস্টারমশাইরা চলে যাওয়ায় আমাদের খুব খারাপ লাগছে। আমরা ওঁদের স্কুলে ফেরত চাই। সেই জন্যই আমরা মিছিল বের করেছি।”

লালগোলার ওই স্কুল এদিন খোলা থাকলেও, মিছিলে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়ারা সকালে নিজেদের বাড়ি থেকে স্কুলের গেটের সামনে এসে জড়ো হয়, তবে তারা স্কুলে প্রবেশ করেনি। স্কুলের গেট থেকে মিছিল শুরু করে তারা লালগোলা ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (বিডিও) পর্যন্ত যায়। মিছিলে হাঁটা বকুল সিংহ নামে আরেকজন ছাত্র বলে, “স্কুলের সকল ছাত্রছাত্রীকে মিছিলে হাঁটার জন্য বলা হয়েছিল। যাদের ইচ্ছে ছিল, তারা হেঁটেছে। আমরা লালগোলার বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে আমাদের এই দাবি জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি অফিসে ছিলেন না।”

লালগোলার বিডিও দেবাশিস মণ্ডল এই প্রসঙ্গে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়োগ বাতিল হয়েছে। তবে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি ওই ছাত্রছাত্রীদের যে আবেগ, আমি তাকে সম্মান জানাই।”

প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন হয় লালগোলার শেখালিপুর হাইস্কুলে। তাদের একাংশের এই দিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস সারাফি বলেন, “পড়ুয়ারা নিজেরাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই মিছিল বের করেছিল বলে শুনেছি। এই মিছিলের সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকদের কোনও যোগ নেই। মিছিলে যারা হেঁটেছে, তারা এদিন স্কুলে আসেনি।”

তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একসঙ্গে দশজন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল হওয়ায় স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হবে বলে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেছেন। ওই দশজনের নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর বর্তমানে স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “ক্লাসে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের স্কুলের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হয়। এখন এতজন শিক্ষক না থাকায় সেই সকল কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হবে। কীভাবে সবদিক সামাল দেব, তা বুঝতে পারছি না।”