কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, পাকিস্তানিকে গুলি করে মারল বিএসএফ

জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে ফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। আরএস পুর সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্তে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল মধ্যরাতে আব্দুলিয়ান সীমান্ত চৌকি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফের গুলিতে এক পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, বিএসএফ জানিয়েছে যে সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্তের দিকে আসতে দেখে সতর্ক করা হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি সৈন্যদের সতর্কতা উপেক্ষা করে এগিয়ে আসতে থাকে। বিপদ আঁচ করতে পেরে সৈন্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত অনুপ্রবেশকারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।

বিএসএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিহত অনুপ্রবেশকারীর পরিচয় এবং তার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। তবে তার কাছ থেকে কোনও অস্ত্র বা আপত্তিকর জিনিস উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনার খবর দেওয়া হলে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এই ঘটনার পর বিএসএফ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের সঙ্গে একটি পতাকা বৈঠক করে। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সীমান্ত এলাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ অনুপ্রবেশের এই ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে পাকিস্তানি পক্ষ নিহত অনুপ্রবেশকারীর মরদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

বিএসএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা মনে করছেন, এই ঘটনা সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানের মদদে পরিচালিত সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অংশ হতে পারে। বিএসএফের সতর্ক ও তৎপর জওয়ানরা একটি বড় ধরনের নাশকতা বানচাল করতে সক্ষম হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। বিএসএফ নিয়মিতভাবে এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তানি পক্ষের মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি এই ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।