বিশেষ: কালো বিড়ালের নির্মম এক জীবন কাহিনী, আজও রয়ে গেছে সেই রহস্যজাল

বিড়াল আদুরে প্রাণী। কাছে ঘেঁষে থাকতে পছন্দ করে এরা। সব বিড়ালের ভাগ্য এক নয়। সাদা বিড়াল-কালো বিড়ালের জীবন বিত্তান্তও অনেকটাই আলাদা। কালো বিড়ালের ভাগ্যে ঐতিহাসিকভাবেই একের পর এক নির্মম গল্প তৈরি হয়েছে। আজ এমন কিছু গল্প জানুন, আর বিচার করুন এই ঘটনাগুলো কী সত্যিই ঘটা উচিৎ ছিল?

জানা যায়, প্রায় তিন হাজার খ্রিস্ট পূর্বাব্দে গ্রিক ঐতিহাসিক হিরোডোটাসের লেখা থেকে প্রাচীন মিশরের অধিবাসীদের বিড়ালপ্রীতির গল্প। প্রাচীন মিশরে বেড়ালকে বলা হত ‘মাউ’। ইজিপ্সিয়ানরা বিশ্বাস করত কালো বিড়ালের মধ্যে কিছু আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে। তারা কালো বিড়ালকে পূজাও করত। বিড়ালের মুখধারী সেই মিশরীয় দেবীর নাম ছিল বাস্ট বা বাসটেট। তিনি ছিলেন প্রাচীন মিশরের উর্বরতা ও মাতৃত্বের দেবী। কালো বিড়ালকে আঘাত করলে বা তাকে মেরে ফেললে মানুষের জীবনে অশুভ আঘাত নেমে আসে বলে বিশ্বাস করত ইজিপ্সিয়ানরা। কিন্তু ইউরোপে এসে একেবারে আমূল বদলে গেল সেই ইতিহাস। বিড়াল, বিশেষত কালো বিড়াল হয়ে গেল অশুভ শক্তির প্রতীক।

ডাকিনী চর্চা রমরমা হয়ে উঠেছিল মধ্যযুগের ইউরোপে। যারা এইজাতীয় ডাকিনীবিদ্যা চর্চা করতেন, তাদের অনেকেই কালো বিড়াল পুষতেন। সেই থেকে সাধারণ মানুষের মনে প্রেতাত্মা, অশুভ আত্মা বা ডাইনির প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় কালো বিড়াল। গল্প, উপন্যাস, নাটকের পাতাতেও বারবার ফিরে এসেছে কালো বিড়ালের অশুভ শক্তির কথা।

অষ্টাদশ শতকেরক দিকে ইউরোপ জুড়ে মহামারীর আকার নেয় প্লেগ। অদ্ভুতভাবে অসুখ ছড়ানোর সব দায় এসে চাপে বেড়ালের ঘাড়ে। তারপর শুরু হয় বেড়াল নিধন-যজ্ঞ। মানুষের নির্মম কুসংস্কারের বলি হয়েছিল এরা। অত্যাচার এতোটাই চরমে ওঠে যে ইউরোপ তখন প্রায় বিড়াল-শূন্য হবার উপক্রম।

কেউ কেউ কালো বিড়ালকে অতিলৌকিক জগতের প্রতিনিধি বলে মনে করেন। ১৯ শতকের জলদস্যুরা বিশ্বাস করত যে কোনো মানুষের পোষা কালো বিড়াল হারিয়ে গেলে তা ঐ মানুষটির ব তার পরিবারের দুর্ভাগ্য দূর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। জুয়াড়িরা জুয়া খেলতে যাওয়ার পথে কালো বিড়ালের দর্শনকে অশুভ বলে মনে করে। এমনটা ঘটলে সেদিনের খেলায় তারা নির্ঘাৎ হারবে বলেই ধরে নেয়া হয়।

সনাতন শাস্ত্রমতে, কালো বিড়ালকে অশুভ মনে করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কালো বিড়াল আসলে শনির প্রতীক। সূর্যপুত্র শনি ন্যায়বিচার আর প্রতিশোধের দেবতা এরা। যার দৃষ্টিকে অশুভ মনে করা হয়, শনির নজর কাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং ব্যর্থতা আনে।

পথে বেরিয়ে কালো বিড়ালের মুখোমুখি হওয়ার অর্থ ধরা হয়, শুভ কাজ করতে যাওয়া মানুষটির উপর শনির কুদৃষ্টি পড়া। সেক্ষেত্রে সাফল্য না আসার সম্ভাবনা কমে যায় বলেও মনে করা হয়ে থাকে।

একুশ শতকে দাঁড়িয়েও আজও বহু মানুষ বিশ্বাস রাখেন এইসব অন্ধ ধারণায়। অথচ পৃথিবীটা যেমন একজন মানুষের তেমনি একটি কালো বিড়ালেরও। তাইতো?

সূত্র: দ্য ওয়াল ও অন্যান্য ওয়েবসাইট অবলম্বণে।