সুপ্রিম রায়ে মন্ত্রীর ভাই ‘অযোগ্য’, শ্রীকান্তের দাবি ‘ও মেধাবী, নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে’

সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের রায়ে ২০১৬ সালের বাতিল প্যানেলের ‘অযোগ্য’দের তালিকায় নাম রয়েছে খোকন মাহাতোর। তিনি শালবনির তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর ভাই। তবে নিজের ভাইকে ‘অযোগ্য’ মানতে নারাজ মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, খোকন নিজের মেধা ও যোগ্যতাবলেই চাকরি পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আইনের পথেই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

২০২৩ সালের ১০ই মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে এসএসসি গ্রুপ-সি’র ৮৪২ জন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। সেই ৮৪২ জনের মধ্যে ৭৮৫ জনের বিরুদ্ধে ওএমআর শিট কারচুপি বা বিকৃত করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই তালিকাতেই নাম ছিল প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর ভাই খোকন মাহাতোর।

খোকন মাহাতো ২০১৭ সালে ঝাড়গ্রামের বৈতা শ্রী গোপাল হাইস্কুলে ক্লার্ক (গ্রুপ-সি) হিসেবে যোগদান করেছিলেন। সেই সময় কারচুপির অভিযোগ উঠলেও, মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো এবং তাঁর ভাই খোকন মাহাতো উভয়েই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে, ৬ মাসের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশে গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি এবং নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ স্তরের শিক্ষকরা তাদের চাকরি ফিরে পান। এবার সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ে ভাইয়ের চাকরি যাওয়ার পরেও একই দাবি করলেন প্রতিমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই সময় অনলাইন-কে ফোনে শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করতে পারেনি। সেই কারণেই সকলকেই বাদ দিয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন নিশ্চয়ই আইনের পথ খুঁজে বের করে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি ফিরিয়ে দেবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মন্ত্রী হওয়ার কারণেই ভাইকে নিয়ে ‘অপপ্রচার’ করা হচ্ছে। শ্রীকান্ত মাহাতো জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। সে নিজের যোগ্যতাবলেই চাকরি পেয়েছে। সে অঙ্কে স্নাতক। লাইব্রেরি সায়েন্স বিষয়ে সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এমনকি প্রাইমারি টেট পরীক্ষাতেও সে পাস করেছিল। ক্লার্কের চাকরি পাওয়ার আগে আমার ভাই আরও দুটো চাকরি ছেড়েছে। আমি মন্ত্রী বলেই আজ সকলে এই নিয়ে অপপ্রচার করছে।’ যদিও এই বিষয়ে মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতোর ভাই খোকন মাহাতোর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, কারণ তিনি ফোন ধরেননি।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বাতিল হওয়া প্যানেলের যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনের পথে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয় এবং কত দ্রুত যোগ্য প্রার্থীরা তাদের চাকরি ফিরে পান।