“দু’নম্বরি করার ধান্দা করছে মমতা, শিক্ষকদের পাঠাচ্ছেন টাকা তোলার জন্য…”- ফিরদৌস

২০১৬ সালের এসএসসি মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে কঠোর রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হচ্ছে সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া। এর ফলে রাজ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
তবে আদালত জানিয়েছে, যাঁরা সত্যিই যোগ্য, তাঁদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
রায়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুক লাইভে এসে এই মামলার বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম অভিযোগ করেন, “নতুন নিয়োগ শুরুর আগেই দুর্নীতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
ফিরদৌসের দাবি, চাকরি হারানো কিছু শিক্ষকের বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে ঘুষ আদায়ের লক্ষ্যে। মেদিনীপুরের এক শিক্ষকের ঘটনাও উল্লেখ করেন ।ফেসবুক লাইভে ফিরদৌস বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে না সরিয়ে যে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া হবে সেখানেও দুর্নীতি হবে। আজকেই চলে গেছে চাকরিহারা শিক্ষকদের বাড়ি। মেদিনীপুরের এক শিক্ষক তার এক সহ শিক্ষকের বাড়িতে আজকেই বাইক নিয়ে গিয়েছে। চাকরিহারা সেই শিক্ষক আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন। আমার কাছে কল রেকর্ড রয়েছে। কারা গিয়েছে? নতুন নিয়োগে আবার দু’নম্বরি করবে। সেইজন্য গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার দু’নম্বরি করার ধান্দা করছে। যদি আবার দু’নম্বরি করার ধান্দা করে আবার একই পরিণতি হবে। বাইক নিয়ে শিক্ষকদের পাঠাচ্ছেন টাকা তোলার জন্য, লজ্জা করে না?’
ফিরদৌস বলেন,“যাঁরা পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান, তাঁরা যেন মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ভুল না করেন। যদি আবারও টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে, তাহলে ফের একই পরিণতির মুখে পড়তে হবে। টাকা দিয়ে কেউ যেন নিয়োগের চেষ্টা না করেন।”
তিনি আরও বলেন,“যাঁরা অতীতে টাকা দিয়েছেন, তাঁরা সেই টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করুন। কিন্তু নতুন করে আর কাউকে এক টাকাও দেবেন না।”
এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার আশ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনই নতুন করে দুর্নীতির সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এখন দেখার, এই নতুন নিয়োগ কতটা স্বচ্ছতা বজায় রেখে সম্পন্ন করা যায়, এবং রাজ্য সরকার কীভাবে এই অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করে।