মসজিদ-কবরস্থান অধিগ্রহণ করবে সরকার? ওয়াকফ আইনে কী বলা আছে, জানালেন রবি শঙ্কর প্রসাদ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তপ্ত আলোচনার পর অবশেষে লোকসভা ও রাজ্যসভা— সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে গেল ওয়াকফ সংশোধনী বিল। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই এটি আইনে পরিণত হবে। তবে এই বিল নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি। এমন পরিস্থিতিতে এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের মহিলাদের, বিশেষত বিধবাদের, অনেকাংশে উপকৃত করবে। সেইসঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনাতেও আসবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

রবি শঙ্কর প্রসাদ স্পষ্ট করে বলেন, “এই সংশোধনের ফলে কোনও মসজিদ বা কবরস্থানে হাত পড়বে না। এটা একেবারে ভুল ধারণা।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, “ওয়াকফ তৈরি করেছিলেন যাঁরা, তাঁরা একান্তই সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তা করেছিলেন। তাঁদের সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা দেখা মুত্তাওয়ালিদের দায়িত্ব। মুত্তাওয়ালি মানে হল সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক, মালিক নন। কারণ ওয়াকফ সম্পত্তি আল্লাহর নামে উৎসর্গকৃত।”

প্রসাদ জানান, ভারতের মতো দেশে সবচেয়ে বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহারে নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন— “এই সমস্ত জমিতে কতগুলি স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল গড়ে উঠেছে? যাঁরা এই সম্পত্তি দান করেছেন, তাঁদের ইচ্ছাপূরণ হচ্ছে তো? নাকি শুধু ম্যানেজাররা লাভবান হচ্ছেন?”

তিনি আরও বলেন, “নতুন আইনে প্রতিটি ওয়াকফ সম্পত্তির হিসাব রাখা হবে। অনলাইনে সমস্ত তথ্য থাকবে— কোথায় কোন জমি, তার দায়িত্বে কে, কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে— সবই জনসাধারণ জানতে পারবেন। এতে অপব্যবহার ঠেকানো যাবে।”

সামাজিক উন্নয়নকেই গুরুত্ব
বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, এই সংশোধনী আইন কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিম সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ, বিশেষত নারীদের উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখেই তৈরি। তিনি বলেন, “যাঁরা নাটক করছেন বা ভয় ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বোঝা উচিত— এই বিল সাধারণ মানুষের কল্যাণে, স্বচ্ছ ব্যবস্থার জন্য আনা হয়েছে। মানুষ এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।”