হাওড়া স্টেশনে কলকাতা পুলিশের জালে অস্ত্র ব্যাবসায়ী, আগ্নেয়াস্ত্র সহ উদ্ধার কার্তুজ !

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কিছু কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা এবং তিনি সম্ভবত চেন্নাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শুক্রবার হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে পাকড়াও করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশের ওই আধিকারিক আরও জানান, “গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত এসটিএফ থানায় নথিভুক্ত একটি মামলার অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে তাকে হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তার হেফাজত থেকে একটি ৭.৬৫ মিমি ইম্প্রোভাইজড পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ১০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।” এই ঘটনা ফের একবার শহরে অবৈধ অস্ত্র কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর মনোভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই অস্ত্র ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসটিএফের কাছে খবর আসে যে অভিযুক্ত শহর ছেড়ে চেন্নাই পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করার পরেই এসটিএফের একটি বিশেষ দল হাওড়া স্টেশনে ওঁত পেতে থাকে। শুক্রবার সকালে যখন অভিযুক্ত ট্রেনে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।

প্রাথমিক তল্লাশিতে তার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় একটি স্ব-নির্মিত পিস্তল, যা সাধারণত বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে থাকে। এই ধরনের অস্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবুও অপরাধমূলক কাজকর্মের জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত। এছাড়াও, ১০টি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার হওয়ায় ধৃতের নাশকতামূলক অভিসন্ধি থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই অভিযুক্ত মুর্শিদাবাদ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে সরবরাহ করত। এসটিএফের আধিকারিকরা মনে করছেন, এই গ্রেফতারির মাধ্যমে একটি বৃহত্তর অস্ত্র পাচার চক্রের পর্দা উন্মোচিত হতে পারে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ, যাতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা যায়। তদন্তকারীরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সূত্রগুলি খুঁজে বের করার জন্য জোরদার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিলাম। তার গ্রেফতারি আমাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। আমরা এখন তার সহযোগীদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি অস্ত্রের মূল উৎসস্থল খুঁজে বের করার জন্য কাজ করছি।” তিনি আরও জানান, এই ধরনের অভিযান শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হাওড়া স্টেশনের মতো একটি জনবহুল এলাকায় অস্ত্রধারী ব্যক্তির গ্রেফতারির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “এত লোকের ভিড়ে এমন ঘটনা সত্যিই উদ্বেগের। পুলিশের উচিত স্টেশন চত্বরে আরও কঠোর নজরদারি চালানো।” সাধারণ মানুষের ধারণা, অবৈধ অস্ত্রের আনাগোনা বন্ধ না হলে সমাজে অপরাধের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

এসটিএফ জানিয়েছে, তারা এই অস্ত্র পাচার চক্রের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পুলিশ তার রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই গ্রেফতারি কেবল একটি পদক্ষেপ, সমগ্র অস্ত্র কারবারি চক্রটিকে নির্মূল করতে তারা বদ্ধপরিকর। এই ঘটনা কলকাতা পুলিশের তৎপরতা এবং সাফল্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে, সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, এমনটাই মনে করছেন সকলে।