তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, জখম দু’পক্ষের একাধিক কর্মী, ফের উত্তপ্ত কোচবিহার

শুক্রবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের ব্যাংচাতরা রোড এলাকা। বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দিনের এই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এদিন কোচবিহার শহরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) এবং বিজেপির পৃথক কর্মসূচি ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লন্ডনের কেলগ কলেজে এসএফআই-এর বিক্ষোভ দেখানোর প্রতিবাদে টিএমসিপি একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল ইস্যুতে বিজেপির পক্ষ থেকে পথ অবরোধের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

বিজেপির স্থানীয় সূত্রে খবর, তাদের দলীয় কার্যালয় থেকে নেতৃত্বরা পথ অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় টিএমসিপির মিছিল তাদের কর্মসূচি শেষ করে ব্যাংচাতরা রোড দিয়ে ফিরছিল। মিছিল নিয়ে দুটি পক্ষ মুখোমুখি হতেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ ও হুমকি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষের রূপ নেয়।

বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা তাদের কার্যালয়ে ইট পাথর ছুড়তে শুরু করে। এছাড়াও, তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকেও বিজেপির কর্মীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সংঘর্ষ চলাকালীন ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইট পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বহু কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবে।