মেদিনীপুরের স্কুলে চাকরি হারালেন ৬ জন, তালিকায় রয়েছেন TMC-র অঞ্চল সভাপতিও

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সবং ব্লকের মোহাড় ব্রহ্মময়ী হাইস্কুলে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। একসঙ্গে স্কুলের ৬ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। ১৩০০-র বেশি ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট এই স্কুলে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
শুক্রবার স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক সুদীপ শাসমল ‘এই সময় অনলাইন’-কে জানান, তাঁদের স্কুলে এমনিতেই বেশ কিছু শূন্যপদ ছিল। তার উপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একসঙ্গে ছয়জন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) থেকে স্কুল চালানোটাই কঠিন হয়ে গেল। ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা নেওয়া, খাতা দেখা কিভাবে সম্ভব তা বুঝতে পারছি না।’
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, চাকরি হারানো ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই বাংলার শিক্ষক। এদের মধ্যে দু’জন নবম ও দশম শ্রেণির এবং একজন একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের বাংলা পড়াতেন। এই মুহূর্তে স্কুলে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। অথচ পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট আটটি ক্লাসে বাংলা পঠন-পাঠনের কাজ চলে। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে সিলেবাস শেষ করা যাবে, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক।
চাকরি হারানো শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন পিংলা ব্লকের ১০ নম্বর জলচক অঞ্চলের জঁহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং জলচক অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অজয় মাঝি। তিনি নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রদের বাংলা পড়াতেন। বিরোধীদের অভিযোগ, অজয় মাঝি প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে যখন ফাঁকা ওএমআর (OMR) জমা দেওয়া বা ওএমআর (OMR) কারচুপি করে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে অজয় মাঝির নামও ছিল বলে জানা যায়।
চাকরি হারানোর পর স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন অজয় মাঝি। ‘এই সময় অনলাইন’-এর তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। এখন মানসিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়।’
পিংলা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সেখ সবেরাতি এই রায়কে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন এবং তিনি নিশ্চয়ই এর একটি সমাধান বার করবেন। অজয় মাঝির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অজয় ২০২২ সালে অঞ্চল সভাপতি হয়েছেন। আমি গত ৯ বছর ধরে ব্লক সভাপতির পদে আছি। ওঁর বিরুদ্ধে আমি কোনও অভিযোগ পাইনি।’
মোহাড় ব্রহ্মময়ী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ শাসমলও অজয় মাঝির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্কুলের প্রথম তিনজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের নাম বলতে বললে, আমি অবশ্যই অজয় স্যারের নাম বলব। ওঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে ওঁর মতো শিক্ষককে হারিয়ে স্কুলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’
একদিকে যখন শিক্ষকের অভাবে স্কুল পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, তখন চাকরি হারানো শিক্ষকদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পঠন-পাঠন কিভাবে স্বাভাবিক রাখা যায়, সেটাই এখন প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।