“অঙ্কিতার পর ববিতা, এবার অনামিকারও চাকরি গেল!”-ভাগ্যের ফেরে কর্মহীন তিন নারী

২০২২ সালের ১৭ মে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সেই শূন্যপদে নিয়োগ পান মামলাকারী ববিতা সরকার। কিন্তু সেই নিয়োগও নিয়ম বহির্ভূত বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিলিগুড়ির অনামিকা রায়। আদালতের নির্দেশেই ২০২৩ সালের মে মাসে ববিতার চাকরি পান অনামিকা। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন অনামিকাও।

চাকরি হারানোর পর হতাশা প্রকাশ করে অনামিকা রায় বলেন, ‘আমি হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি পেয়েছিলাম। আমার নিয়োগ কোনওভাবেই বেআইনি ছিল না। আমার দুটি সন্তান রয়েছে এবং স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। আমার এই চাকরিটি পরিবারের কাছে একটি বড় ভরসা ছিল।’

প্রসঙ্গত, অঙ্কিতা অধিকারীর পরিবর্তে ২০২২ সালের ৩০ জুন চাকরিতে নিয়োগপত্র পান ববিতা সরকার। প্রথমে তাঁর কর্মজীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনামিকা রায় আদালতে মামলা দায়ের করে ববিতার নিয়োগে অসঙ্গতি তুলে ধরেন। অনামিকার দাবি ছিল, স্নাতক স্তরে ববিতা ৮০০ নম্বরের মধ্যে ৪৪০ নম্বর অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ পেয়েছেন, কিন্তু আবেদনপত্রে তা ৬০ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এর ফলে অ্যাকাডেমিক স্কোরে তিনি ৮ নম্বর পান, যেখানে তার পাওয়ার কথা ছিল ৬। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট ববিতার চাকরি বাতিল করে অনামিকাকে নিয়োগের নির্দেশ দেয়।

কিন্তু ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্যানেল বাতিলের জেরে অনামিকা রায়ের চাকরিও আর টিকল না।

অর্থাৎ, যে চাকরিটি দু’জনের হাত ঘুরে অবশেষে তিনি পেয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেটিও তার হাতছাড়া হল।

ভবিষ্যতে ফের চাকরির পরীক্ষায় বসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনামিকা বলেন, ‘আমি পরীক্ষায় বসতেই পারি। তবে একজন ২৫ বছর বয়সে যে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে পারেন, ৫০ বছর বয়সে সেই উদ্যম থাকে না। ২০১৬ সালে যেভাবে পরিশ্রম করেছিলাম বা সেই সময়ের যে পরিস্থিতি ছিল, তা নিশ্চয়ই এখন আর নেই।’

এই ঘটনায় একদিকে যেমন অনামিকা রায়ের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি হল, তেমনই এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং আদালতের নির্দেশ বারবার চাকরি প্রার্থীদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, যা অনেকের কাছেই চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।