OMG! প্রেমিকের সঙ্গে লুকিয়ে দিঘা ভ্রমণ, হোটেলে মিলল ২৪ বছর বয়সী তরুণীর দেহ

স্বামীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়ায় অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল মালদার হবিবপুরের বছর চব্বিশের চুমকি দাসের। স্বামী ও সন্তানকে ছেড়ে মায়ের কাছে থাকতে শুরু করেন তিনি। এরপর কলকাতায় চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার নাম করে প্রেমিক ও তার বন্ধুদের সঙ্গে দিঘায় বেড়াতে যান। বুধবার রাতে দিঘার একটি হোটেল থেকে চুমকির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে, এটি আত্মহত্যা নয়, খুন বলে দাবি করেছে মৃতার পরিবার। বৃহস্পতিবার মৃতদেহ আনার জন্য দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চুমকি দাসের (২৪) বাড়ি হবিবপুর থানা এলাকায়। তাঁর বাবা পাপ্পু দাস কয়েক বছর আগে মারা যান। মা বন্দনা দাস পাঁচ বছর আগে পুরাতন মালদা পুরসভার বাসিন্দা, পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী এক যুবকের সঙ্গে একমাত্র মেয়ের বিয়ে দেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। বছরখানেক আগে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় মেয়েকে স্বামীর কাছে রেখে মায়ের কাছে হবিবপুরে ফিরে আসেন চুমকি।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, চুমকি তাঁর স্বামীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হলে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে হবিবপুরে বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যে স্বামীর সেই বন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সোমবার দুই পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে চেপে দিঘায় ঘুরতে যান চুমকি। বুধবার রাতে হোটেলের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
মৃতার মা বন্দনা দাস জানান, “জামাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে সম্পর্ক খারাপ ছিল। অনেক চেষ্টা করে সেই সম্পর্ক নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করি। তিন মাস আগে মেয়ে পুরাতন মালদায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করে। কিন্তু ওর নতুন পুরুষ বন্ধু বিপত্তি ঘটায়। ফের অশান্তি শুরু হয়। মেয়ে আবার আমার কাছে ফিরে আসে।” তিনি আরও বলেন, “ওরা যে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছে, সেটা আমি জানতাম না। আমাকে বলেছিল একটি বেসরকারি কোম্পানির চাকরির ইন্টারভিউ দিতে কলকাতায় যাচ্ছে। বুধবার রাতে দিঘা থানার পুলিশ আমাকে ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানায়।” বন্দনা দেবীর অভিযোগ, “মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পরে ঘরের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পিছনে মেয়ের ওই পুরুষ বন্ধু জড়িত।”
হবিবপুর থানার পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, দিঘার হোটেলে চুমকি তাঁর প্রেমিককে স্বামী পরিচয় দিয়ে হোটেলের ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন বন্ধু ছিলেন। মৃতার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনার সময়ে তিনজন সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। শরীর খারাপ থাকায় হোটেলে ছিলেন চুমকি। বন্ধুরা ঘণ্টা দুয়েক পরে হোটেলে ফিরে ঘরের মধ্যে চুমকির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব জানিয়েছেন, মৃতার পরিবার নির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ জানালে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এই ঘটনায় দিঘায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ হোটেলের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং মৃতার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের বয়ান রেকর্ড করছে।