“ভেজাল-বিষাক্ত পনিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার”-BIG STEP-এর তোড়জোড় শুরু কেন্দ্রের

বাজারে রমরমিয়ে চলা ভেজাল পনিরের কারবার রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও বিতরণ মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী ভেজাল পনির বিক্রির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে শ্রী যোশী জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং ক্রেতাদের আস্থা সুনিশ্চিত করার স্বার্থে এই ধরনের পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী জেপি নাড্ডাকে লেখা চিঠিতে আরও জানিয়েছেন যে জাতীয় গ্রাহক হেল্পলাইন (এনসিএইচ)-এ নকল ও ভেজাল পনির বিক্রি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই মারণ ভেজাল পনির?
অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি সহজেই ভেজাল পনির তৈরি করে বাজারজাত করছে। তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১৫০ টাকা খরচ করে পাঁচ কেজি পর্যন্ত নকল পনির তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য সামান্য পরিমাণ দুধের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (বেকিং সোডা) এবং পাম তেল। এরপর বেকিং পাউডার দিয়ে ছানা কাটিয়ে সেটিকে পনিরের আকার দেওয়া হচ্ছে এবং ফ্রোজেন করা হচ্ছে। এই নকল পনির দেখতে অবিকল আসল পনিরের মতোই। তবে এটি মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়াও, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পনির তৈরিতে ডিটারজেন্ট এবং কৃত্রিম গ্লুকোজ ও মাল্টোজের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে। এই ধরনের ভেজাল পনির শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
ভেজাল পনির চেনার সহজ উপায়:
ভেজাল পনির শনাক্ত করার জন্য সাধারণ মানুষকে কিছু সহজ উপায় জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা:
- গন্ধ ও স্পর্শ: পনির হাতে নিয়ে প্রথমে ভালোভাবে চটকে নিন এবং তারপর তার গন্ধ শুঁকুন। যদি তেল বা অন্য কোনও অস্বাভাবিক গন্ধ পান, তাহলে বুঝবেন সেটি ভেজাল। আসল পনিরের গঠন কিছুটা শক্ত হয় এবং এর গন্ধ দুধের মতো।
- সয়াবিন পরীক্ষা: একটি পাত্রে জল গরম করে তাতে এক টুকরো পনির ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হয়ে গেলে তাতে সামান্য সয়াবিনের গুঁড়ো মেশান। যদি জলের রং লাল হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন পনিরটি নকল এবং এতে ডিটারজেন্ট বা ইউরিয়া মেশানো হয়েছে।
- রাবিং টেস্ট: পনির আসল নাকি নকল তা জানতে আঙুল দিয়ে ম্যাশ করে পরীক্ষা করুন। যদি পনির নকল হয়, তাহলে চাপ দিলেই তা ভেঙে যাবে। কারণ নকল পনিরে স্কিমড মিল্ক পাউডার ব্যবহার করা হয়। আসল পনির সহজে ভাঙবে না।
- টেক্সচার পরীক্ষা: আসল পনির সাধারণত খুব নরম এবং স্পঞ্জি হয়ে থাকে। অন্যদিকে, নকল পনিরের টেক্সচার রাবারের মতো এবং দেখতে খুব টাইট হয়।
- আয়োডিন পরীক্ষা: একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে এক টুকরো পনির দিয়ে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা করে তাতে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন টিংচার মেশান। যদি পনির নকল হয়, তাহলে তার রং নীল হয়ে যাবে। আসল পনিরের রং অপরিবর্তিত থাকবে। এছাড়াও, আসল পনির খেতে নরম লাগে এবং নকল পনির রাবারের মতো চিবোতে হয়।
স্বাস্থ্যের উপর ভয়াবহ প্রভাব:
চিকিৎসকদের মতে, এই ভেজাল পনির এবং অন্যান্য ভেজাল খাদ্যদ্রব্য খেলে মানুষের শরীরে পেটের রোগ এবং ত্বকের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের ভেজাল খাবার খেলে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগও হতে পারে। ভেজাল পনির শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও, এতে থাকা ট্রান্স ফ্যাট শরীরের প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ ভেজাল পনিরের কারবার বন্ধ করতে কতটা সাহায্য করে, সেটাই এখন দেখার। তবে খাদ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে।