OMG! সৎ মায়ের প্রেমিককে বিয়েতে অস্বীকার, তারপরেই মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য ঘটনায়

মালদার বাঁশবাড়ি এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রীর বিবাহিতা দিদি তাদের সৎ মায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার ময়নাতদন্তের পর ওই পড়ুয়ার দেহ বাড়িতে আনা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষত মহিলারা, মেয়েকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত সৎ মাকে তাড়া করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে মারধরও করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং অভিযুক্ত মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রীর বাবার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। মৃত কিশোরী তার প্রথম পক্ষের ছোট মেয়ে। স্থানীয়দের দাবি, বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং এই নিয়ে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
মৃত ছাত্রীর দিদির অভিযোগ, প্রথমে তাদের সৎ মা নিজের প্রেমিকের সঙ্গে তার বড় বোনের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বড় বোন রাজি না হওয়ায় এবং সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হোলির আগেই পালিয়ে বিয়ে করে। এরপর সৎ মায়ের নজর ছোট বোনটির দিকে যায় এবং একইভাবে তিনি তার প্রেমিকের সঙ্গে ছোট বোনের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্বাভাবিকভাবেই ছোট বোনও এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই দশম শ্রেণির ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এর পরেই এলাকায় রটে যায় যে সৎ মা গলা টিপে শ্বাসরোধ করে ছোট মেয়েকে খুন করে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বুধবার দেহ বাড়িতে আনা হলে স্থানীয় মহিলারা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত সৎ মাকে ধাওয়া করেন এবং তাকে মারধর করেন।
মৃত ছাত্রীর দিদি সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, “মায়ের মৃত্যুর দু’বছরের মধ্যেই বাবা ওই মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তার পরেও ওই মহিলা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এলাকার লোকজনও বিষয়টি জানেন। এখন ওই মহিলা নিজের প্রেমিকের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বোন তাতে রাজি হয়নি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বোনকে গলা টিপে খুন করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা শীঘ্রই পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।”
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য তদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। অভিযুক্ত সৎ মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।