‘চাকরি আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে’,-চাকরি বাতিলের আবহে বিতর্কিত পোস্ট তৃণমূল বিধায়কের!

সরকারি চাকরি বাতিলের ঘটনায় যখন রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও হতাশা বিরাজ করছে, তখন তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই বার্তা চাকরি হারানো ২৬ হাজার মানুষের উদ্দেশ্যে নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ‘চাকরি চলে গেলে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়’ সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, একজন শাসক দলের বিধায়ক এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে পার্টি লাইনের বাইরে গিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী তার পোস্টে শুরুতেই লেখেন, “দয়া করে কেউ ভাববেন না, ২৬ হাজার চাকরি হারানো মানুষের জন্য এই পোস্ট দিচ্ছি। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।” এরপর তিনি তার জীবনের অতীত দিনের কথা তুলে ধরেন। যাদবপুরে রিকশা চালানো, টেলিভিশনের নাইট গার্ডের চাকরি পাওয়া এবং মাত্র আট মাসে সেই চাকরি হারানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “চাকরি আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। তখন কী করব, সেই প্রস্তুতি আগে থেকে নিয়ে রাখতাম বলেই কোনও দিন পস্তাইনি।”

তৃণমূলের এই বিধায়ক আরও লেখেন, “চাকরি পেয়েও রিকশা বিক্রি করিনি। অনেকেই বলেছিল বিক্রি করে দিতে, পরে কেউ কিলো দরেও কিনবে না। আমি শুনিনি। কারণ জানতাম, চাকরি আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে।” তিনি ভারত টেলিভিশন বাংলা ছেড়ে হায়দরাবাদ চলে যাওয়ার ফলে ১২০ জন কর্মীর বেকার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং জানান, সেই সময় তিনি ভেঙে না পড়ে বাড়ি ফিরে রিকশা চালানো শুরু করেছিলেন।

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর এই পোস্টের মূল বার্তা ছিল জীবনের অনিশ্চয়তাকে মেনে নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা এবং কোনও প্রাপ্তি নিয়ে অহংকার বা দম্ভ না দেখানো।

তবে, তার এই পোস্ট ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং চাকরি হারানোদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, সেখানে শাসক দলের একজন বিধায়কের এই ধরনের ‘ব্যক্তিগত পোস্ট’ কতটা সংবেদনশীল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তৃণমূলের অভ্যন্তরেও অনেকে মনে করছেন, এই বক্তব্যে পরোক্ষে চাকরি হারানোদের প্রতি সহানুভূতির পরিবর্তে ‘মানসিক প্রস্তুতি’র পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা দলের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পোস্টটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ কেউ বিধায়কের বক্তব্যকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন, আবার অনেকেই তীব্র সমালোচনা করেছেন। চঞ্চল কর্মকার নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “স্কুল শিক্ষকরা চাকরি যাওয়ার পর এখন রিক্সা চালাবেন? না মুদিখানার দোকান খুলবেন? কিছু লিখতেই হবে বলে লিখে দিচ্ছেন?” শুভ্রজ্যোতি গাঙ্গোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “তৃণমূলের নেতারা চাকরি চুরি করবে আর যোগ্য শিক্ষকরা তার দায় নিয়ে চাকরি খুইয়ে রাস্তায় রিক্সা চালাবেন! এই না-হলে তৃণমূলের নেতা?”

তবে, কিছু মানুষ বিধায়কের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার নিরিখে তার বক্তব্যকে অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে দেখছেন। তবুও প্রশ্ন উঠছে, এই মন্তব্যগুলি কি শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এর প্রভাব দলের ভাবমূর্তিতেও পড়বে? এই বিতর্ক আপাতত থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।